প্রেম প্রস্তাব ফেরানোর কি এই পরিণতি? ক্লাসের মধ্যে ৩০ জন পড়ুয়ার সামনে যা ঘটল, জানলে শিউরে উঠবেন!

তখন স্কুলে পুরোদমে ক্লাস চলছে। শিক্ষক সহ ক্লাসে উপস্থিত রয়েছে ৩০ জনেরও বেশি পড়ুয়া। হঠাৎই ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক ঘটনা। গাছ কাটার একটি বৈদ্যুতিক করাত (Chainsaw) হাতে সোজা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে এক যুবক। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক ছাত্রীর ওপর এবং চালাতে থাকে এলোপাথাড়ি করাত। এই নৃশংস হামলায় ওই ছাত্রী মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে, আর তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছে আরও এক পড়ুয়া। শনিবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার রাপ্তাডুরের একটি জেলা পরিষদ হাইস্কুলের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোরগোল ছড়িয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ক্লাসরুমের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ক্লাস চলাকালীন ওই যুবক অত্যন্ত সুকৌশলে স্কুলের ভেতর ঢুকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, চেনস বা বৈদ্যুতিক করাত হাতে ওই যুবক সরাসরি দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মুখোমুখি হয়ে তার মুখ, মাথা, ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপাতে শুরু করে। সহপাঠিনীকে বাঁচাতে অন্য এক ছাত্রী বাধা দিতে গেলে সেও আহত হয়। হামলার পরেই রক্তাক্ত অবস্থায় দুই পড়ুয়াকে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষজন তড়িঘড়ি দুই আহত ছাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক
আহত দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গেছে। তাঁর ঘাড় ও পেটে গভীর ক্ষত রয়েছে। এমনকি হামলা এতটাই তীব্র ছিল যে তাঁর ডান হাতটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। অনন্তপুরের সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় আহত ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে।
গ্রেপ্তার অভিযুক্ত, নেপথ্যে কি একতরফা প্রেমের প্রতিশোধ?
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত অভিযুক্তের নাম হেমন্ত ওরফে দুম্মু (২১)। ধর্মমবরম রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্ত নাকি ওই ছাত্রীর দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়। সম্প্রতি সে ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু ছাত্রী তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তবে ঠিক কী কারণে এই নির্মম হামলা, তা এখনও পুলিশ নিশ্চিতভাবে জানায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
স্কুলের অন্দরে এ ধরনের মারাত্মক ও বিপজ্জনক একটি যন্ত্র নিয়ে কীভাবে ওই যুবক সমস্ত নজরদারি এড়িয়ে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, এই লোমহর্ষক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। আহত ছাত্রীর চিকিৎসায় যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে, তার সর্বোচ্চ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপ করারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কড়া ভাষায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নারা লোকেশও।