“ভারতের প্রথম ভোট চোর তো নেহেরুই!” বিরোধীদের মক পার্লামেন্টকে ‘ড্রামা’ বলে বিজেপি মুখপাত্রের বিস্ফোরক তোপ

ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে বিরোধী শিবিরের তোলা অভিযোগের পাল্টা জবাবে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করল বিজেপি। বিরোধীদের আয়োজিত প্রতীকী অভিসংশন ও ‘মক পার্লামেন্ট’ কর্মসূচিকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করেছে শাসক দল।
সংবাদ সম্মেলনে কড়া সুরে বিজেপি মুখপাত্র দাবি করেন, বিরোধীরা নির্বাচনে হেরে গিয়ে বারবার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অপমান করছে এবং কাল্পনিক অভিযোগ তুলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
🗳️ ১৩.২ কোটি ভোটার বাদ পড়ার অভিযোগে ‘ASDD’ সূত্রের ব্যাখ্যা
সম্প্রতি বিরোধী জোট দাবি করেছিল যে, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩.২ কোটি মানুষের নাম অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।
বিজেপি মুখপাত্র জানান, নির্বাচন কমিশনের পরিচালিত ‘বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন’ (SIR) একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া। এটি মূলত ‘ASDD’ সূত্রের ওপর ভিত্তি করে ফিল্ড সার্ভে বা ক্ষেত্রসমীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়:
A (Absent): যারা দীর্ঘদিন নিজেদের কেন্দ্রে অনুপস্থিত।
S (Shifted): যারা স্থায়ীভাবে নতুন স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন।
D (Dead): যেসব ভোটারের মৃত্যু হয়েছে।
D (Duplicate): যাদের একাধিক জায়গায় নাম বা ভুয়া ভোটার কার্ড রয়েছে।
এই যুক্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমেই ভুয়া ও বেআইনি নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ থাকে।
🏛️ “রাহুল গান্ধীকে নকল প্রধানমন্ত্রী হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে”
ইতিহাস ও বর্তমান রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির মুখপাত্র বিরোধীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, কংগ্রেস নিজেদের গণতান্ত্রিক দল বলে দাবি করলেও তাদের ইতিহাস ভোট চুরিতেই ভরা। সর্দার প্যাটেলের বৈধ জনসমর্থন কেড়ে নিয়ে জওহরলাল নেহেরু কীভাবে ক্ষমতার শীর্ষে বসেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, “ভারতের প্রথম ভোট চোর তো নেহেরুই ছিলেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, কংগ্রেস নেতৃত্ব যেভাবে প্রতীকী পার্লামেন্ট বসিয়ে তামাশা করছে, তাতে স্পষ্ট যে দেশের জনগণ কখনোই তাদের সরকার গড়ার সুযোগ দেবে না। তাই বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে এখন ‘মক পার্লামেন্ট’-এর নকল প্রধানমন্ত্রী হয়েই জীবন কাটাতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া এবং বিরোধী জোটের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এই বাদানুবাদ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।