“১ ওভারে ৬ ছক্কা”-পর্দায় আসছে যুবরাজের জীবনের রোমহর্ষক অধ্যায়! জানুন শুটিং কবে?

ডারবানের মাঠে স্টুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে টানা ছয় ছক্কা হাঁকানো হোক কিংবা মারণ ক্যানসারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাইশ গজে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন—ভারতীয় ক্রিকেটের মানচিত্রে যুবরাজ সিং নামটা একটি জীবন্ত আবেগের সমার্থক। ব্যাটিং, বোলিং থেকে শুরু করে ফিল্ডিং—প্রতিটি বিভাগেই দেশের জার্সিতে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। খেলা ছাড়ার পর বর্তমানে অভিষেক শর্মা ও শুবমান গিলের মতো তরুণ প্রজন্মকে তিল তিল করে তৈরি করছেন ‘যুবি’। আর এবার এই বর্ণময় ও লড়াকু জীবনই ধরা দিতে চলেছে রূপোলি পর্দায়। তৈরি হতে চলেছে যুবরাজ সিংয়ের বহুচর্চিত বায়োপিক (Yuvraj Singh Biopic)।

কবে শুরু হচ্ছে শুটিং?

২০২৪ সালেই যুবরাজের বায়োপিক তৈরির প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ছবিটি কবে ফ্লোরে যাবে, তা নিয়ে এতদিন অনুরাগীদের মনে কৌতূহলের অন্ত ছিল না। সম্প্রতি সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেই জল্পনার অবসান ঘটান খোদ যুবরাজ। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ২০২৭ সালেই তাঁর বায়োপিকের শুটিং শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটের আরেক মহারথী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিকের কাজ চলছে, যেখানে সৌরভের চরিত্রে অভিনয় করছেন রাজকুমার রাও। ফলে ‘দাদা’র পর এবার ‘যুবি’র রূপোলি সফর দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন থেকেই তুঙ্গে।

ক্যানসারের চেয়েও বেশি ছিল ক্রিকেট হারানোর ভয়

বায়োপিক তো বটেই, এদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল যুবরাজের ক্যানসারের বিরুদ্ধে সেই মরণপণ লড়াইয়ের দিনগুলির স্মৃতি। রোগাক্রান্ত হওয়ার সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে যুবরাজ জানান, মারণরোগের শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও তাঁর মনে অনেক বেশি ভীতি তৈরি করেছিল ক্রিকেট থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক।

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “কেরিয়ারের শুরুর দিকে আমার স্বাস্থ্য মাঝে মাঝেই ওঠা-নামা করত। আমার কাছে স্বাস্থ্যই আসল সম্পদ। বহু মানুষ এখনো এই রোগটাকে ভয় পান এবং এটা নিয়ে মুখ খুলতেও কুঁকড়ে যান। সত্যি বলতে, একটা সময় আমিও চাইতাম না এই বিষয় প্রকাশ্যে আসুক। কারণ আমার ভয় হতো, এটা জানাজানি হলে বোধহয় আমার ক্রিকেটজীবন সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। মানুষ ভাববে, এই ছেলের ক্যানসার হয়েছে, ও আর কখনো বাইশ গজে ফিরে দেশের হয়ে খেলতে পারবে না।”

তবে আমেরিকার মাটিতে কঠোর কেমোথেরাপি পর্বের কঠিন লড়াই পেরিয়ে যেভাবে তিনি ফের জাতীয় দলে ফিরেছিলেন এবং শতক হাঁকিয়ে দেশকে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন, তা গোটা বিশ্বকে লড়াইয়ের নতুন সংজ্ঞা শিখিয়েছে। যুবরাজ মনে করেন, মানসিক দৃঢ়তা এবং পরিবারের অটুট সমর্থনই একজন মানুষকে যেকোনো অন্ধকার থেকে টেনে তুলতে পারে।

পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর বর্তমানে দুই সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে একেবারে পুরোদস্তুর পারিবারিক মানুষ যুবরাজ। সকালে ঘুম ভাঙার পর সন্তানদের মিষ্টি কণ্ঠস্বর শোনা তাঁর জীবনের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার’—যা নিমেষের মধ্যে জীবনের সব ক্লান্তি ও জটিলতাকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়।