“কোনও সীমার বাধা নেই, সরাসরি গুঁড়িয়ে দাও!” আমেরিকাকে সমূলে ধ্বংসের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবার আরও ভয়াবহ রূপ নিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রশক্তিগুলোর যে কোনো সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা আঘাত হানার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশ দিলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ও সর্বোচ্চ নেতার অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি জরুরি বিবৃতি জারি করে এই চরম বার্তা দেওয়া হয়েছে।

💣 “যেখানে আঘাত সম্ভব, সেখানেই জবাব!” — মোজতবা খামেনেই

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক হাই-লেভেল রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই কড়া নির্দেশ জারি করেন মোজতবা খামেনেই।

  • সীমা ছাড়িয়ে পাল্টা হামলা: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি নতুন করে কোনো দু সাহসিকতা দেখায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার জবাব দিতে হবে। এই পাল্টা আক্রমণের ক্ষেত্রে কোনো আন্তর্জাতিক বা ভৌগোলিক সীমানার বাধা মানা হবে না।

  • যুদ্ধের প্রস্তুতি: শত্রুর যে কোনো গতিবিধির ওপর নজর রেখে সেনা ও রেভলিউশনারি গার্ডসকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

🛢️ উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী: তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একের পর এক হামলা

ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

  • ৪টি ট্যাঙ্কারে অগ্নিকাণ্ড: শুক্রবার ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করে, অনুমোদনহীন পথে প্রবেশের অভিযোগে হরমুজ প্রণালীতে ৪টি আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়।

  • ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কারে আঘাত: সমুদ্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত পৃথক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই সংকটের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র হাহাকার তৈরি হওয়া ও পূর্ণাঙ্গ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে বিশ্ব অর্থনীতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় কাঁপছে আন্তর্জাতিক মহল।