প্রেমের বিরহ থেকে বাঁশির সুরে মুক্তি! নবদ্বীপের ‘আধুনিক কৃষ্ণ’র সুরের মায়ায় মুগ্ধ গোটা শহর

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পুণ্যভূমি নবদ্বীপ মানেই সংকীর্তনের শব্দ। কিন্তু সেই ভিড় থেকে একটু দূরে নবদ্বীপের কুটিরপাড়ার অলিগলিতে এখন এক অন্য সুর ভাসে। সেই সুর কোনো পৌরাণিক কৃষ্ণের নয়, বরং নবদ্বীপের বাসিন্দা কৃষ্ণ সাহার। পেশায় কাঠের মিস্ত্রি হলেও আজ তাঁর পরিচিতি ‘নবদ্বীপের কৃষ্ণ’ হিসেবেই। তবে এই সুরের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর যন্ত্রণার ইতিহাস।

দীর্ঘদিনের প্রেম পূর্ণতা পায়নি কৃষ্ণের। ভালোবাসার মানুষটি অন্য কারো সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেই নিঃসঙ্গতা আর বুকভরা বিষাদ কাটাতে গত দু’বছর আগে কোনো গুরুর কাছে তালিম ছাড়াই হাতে তুলে নেন বাঁশি। এখন তাঁর ঝুলিতে রয়েছে আড় বাঁশি, রাখালিয়া ও মুরলী বাঁশির সমাহার। গঙ্গার পাড়ে বা নিতাই মন্দিরের চত্বরে যখন তিনি বাঁশি বাজান, সেই বিষাদমাখা সুর শুনে থমকে দাঁড়ান ভক্ত ও পথচারীরা। প্রেমের ক্ষতকে শক্তিতে রূপান্তর করে বাঁশির সুরে নিজেকে খুঁজে পাওয়া এই মানুষটিই এখন নবদ্বীপের নতুন এক প্রেরণা।