ভারতীয় পপ সঙ্গীতের রানি আলিশা চিনয় যখনই স্মৃতির সরণীতে হাঁটেন, তখনই তৈরি হয় নতুন চর্চা। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’, ‘বেবি ডল’ কিংবা ‘আহ… আলিশা!’—নয়ের দশকের এই পপ আইকন ফের একবার শিরোনামে উঠে এলেন দীর্ঘ ৩৬ বছর আগের এক বিশেষ স্মৃতিকে সঙ্গী করে। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি এবং তাঁকে লেখা এক আন্তরিক চিঠির কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে নেটিজেনদের নস্টালজিক করে তুলেছেন গায়িকা।
বাপ্পী লাহিড়ীর হাত ধরে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে প্লে-ব্যাক গায়িকা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন আলিশা। ‘টারজান’, ‘ড্যান্স ড্যান্স’, ‘কমান্ডো’ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে ‘কাজরা রে’, ‘তিনকা তিনকা’, ‘জুবি জুবি’-র মতো কালজয়ী গানে তাঁর কণ্ঠ আজও শ্রোতাদের মণিকোঠায়। তবে এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিগত জীবনের একটি অমূল্য অধ্যায় তিনি প্রকাশ্যে আনলেন সম্প্রতি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেই সময়ের তরুণী আলিশা দাঁড়িয়ে আছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ঠিক পাশেই। ছবির ফ্রেমেই যেন ধরা পড়েছে এক অন্য যুগ। গায়িকার সেই চেনা কোঁকড়ানো চুল এবং রাজীব গান্ধীর সেই পরিচিত সাদা কুর্তা-পায়জামা—সব মিলিয়ে ছবিটি যেন ইতিহাসের সাক্ষী। সেই সঙ্গে আলিশা শেয়ার করেছেন ২৭ মে ১৯৮৯ সালের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের লেটারহেডে লেখা রাজীব গান্ধীর স্বাক্ষরিত একটি ব্যক্তিগত চিঠি।
চিঠিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, “প্রিয় মিস চিনয়, ২৫ এপ্রিল পাঠানো আপনার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে আমিও অত্যন্ত আনন্দিত। আপনার হিন্দি পপ গানের সিডিটি শোনার জন্য পাঠিয়েছিলেন, সেটি শুনে আমি ভীষণ আনন্দ পেয়েছি। এছাড়া আপনার ইংরেজি গান ‘প্রাইজ পজেশন’-এর জন্যও ধন্যবাদ। শনিবারের যুব কর্মসূচির সঙ্গে আপনি যুক্ত হয়েছেন দেখে আমি খুশি। আপনার প্রচেষ্টার ফলাফলের অপেক্ষায় রইলাম।”
এই পোস্ট শেয়ার করে আলিশা ক্যাপশনে লিখেছেন, “তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে একটি বিরল মুহূর্ত! সেটা ছিল এক সোনালি যুগ… তাঁর পাঠানো এই আন্তরিক ও হৃদয়স্পর্শী চিঠি আমি চিরকাল সযত্নে লালন করব।” পোস্টটি তিনি ট্যাগ করেছেন রাজীব-তনয় রাহুল গান্ধীকে।
নয়ের দশকে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ গানের মাধ্যমে আলিশা এবং মিলিন্দ সোমান যেভাবে সাড়া ফেলেছিলেন, তা আজও ভারতীয় পপ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর এই নস্টালজিক পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনুরাগীরা প্রশংসা করছেন আলিশার এই মার্জিত এবং স্মৃতিমেদুর আচরণের। রাজনীতির ময়দান এবং সুরের দুনিয়ার দুই মহারথীর এই ব্যক্তিগত কথোপকথন ও মুহূর্তের স্মৃতিচারণ এখন ইন্টারনেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।





