প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! ১০ বছরের জেল ও ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার কড়া বিধান এনে বড় বার্তা কেন্দ্রের

দেশজুড়ে নিট (NEET) সহ বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘ দিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটাতে এবার আরও অনেক বেশি কঠোর ও নাশকতামূলক আইন আনার পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র সরকার। পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ এবং জালিয়াতি সম্পূর্ণভাবে দমনে পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬-এর খসড়ায় শুক্রবার সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিলটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে সংসদে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মেনেই আগামীকাল লোকসভায় এই নতুন সংশোধনী বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে তোলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন প্রস্তাবিত এই সংশোধনী বিলে ২০২৪ সালের বিদ্যমান আইনের শাস্তির বিধানগুলিকে আরও কয়েকগুণ কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান নিয়মে অপরাধের জন্য ন্যূনতম তিন বছরের কারাদণ্ডের যে বিধান ছিল, তা বাড়িয়ে সরাসরি পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এমনকি অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর পর্যন্ত করার কঠোর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার অঙ্কও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়েছে; সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৫০ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা কিংবা পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যদি প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরনের অভিযুক্ত সংস্থার উপর সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা করা হতে পারে এবং তাদের সরকারি পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে আট বছরের জন্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমান আইনে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ মাত্র চার বছর রয়েছে। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত সংস্থার ডিরেক্টর বা শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম পাঁচ বছরের জেলের পাশাপাশি ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
সংগঠিতভাবে পরীক্ষায় দুর্নীতির চক্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এই ধরনের গুরুতর অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অন্তত ১০ কোটি টাকা জরিমানার কড়া বিধান রাখা হয়েছে। এই ধরনের যেকোনো সংবেদনশীল ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্র বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠনের বিশেষ ক্ষমতা লাভ করবে। প্রয়োজনে মামলার তদন্তভার কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকেও হস্তান্তর করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, এই ধরনের মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে আবশ্যিকভিত্তিতে শেষ করতে হবে।
বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও গতিশীল করতে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট (Fast Track Court) গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। আদালতে চার্জশিট জমা পড়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে প্রতিদিন একটানা শুনানি চালিয়ে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন পুরনো মামলাগুলিও এই নতুন বিশেষ আদালতে স্থানান্তরিত করা হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পৃথক বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের যেকোনো রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করা যাবে এবং সেই আপিল মামলাগুলিও তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিশেষ চেষ্টা করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের জোরালো দাবি, এই কঠোর সংশোধনী আইন বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি পরীক্ষাগুলির স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা বহুগুণ শক্তিশালী হবে। তবে আসন্ন সংসদ অধিবেশনে এই বিলটি পেশ হওয়ার পর পরীক্ষা সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্র ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।