নির্বাচনী আবহে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্যু— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও কৃতী শিক্ষার্থী। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর করা একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁকে এক খোলা চিঠি পাঠালেন তৃণমূল নেত্রী। চিঠির প্রতিটি ছত্রে বিঁধেছে শ্লেষ আর পাল্টা প্রশ্ন।
যাদবপুরের সম্মানে মমতার লড়াই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লেখা চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তিত্বের রুচি নিয়ে। মমতা লিখেছেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের আপনি কি এভাবেই বর্ণনা করেন? আপনি কি সত্যিই এতটাই নীচে নামতে পারেন?” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যে বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা মানচিত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র, তার ছাত্রছাত্রীদের অপমান করার অর্থ বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকেই অপমান করা।
চিঠিতে কী লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী? প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো ওই খোলা চিঠিতে মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, যাদবপুর কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মেধা ও মননের পীঠস্থান। প্রধানমন্ত্রীর কোনো একটি বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ টেনে মমতা লেখেন, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে গিয়ে মেধাবী পড়ুয়াদের গরিমা নষ্ট করা অনভিপ্রেত। প্রধানমন্ত্রীর মতো উচ্চপদে থেকে এমন মন্তব্য দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে ভোটের মুখে মমতার এই খোলা চিঠি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে যখন বিজেপি শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলকে বিঁধছে, ঠিক তখনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ‘ব্যাটিং’ করে বাঙালি আবেগকে উসকে দিলেন মমতা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই চিঠির মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মোদীর বিরুদ্ধে মেধা অবমাননার অভিযোগ তুলে পাল্টা চাল দিলেন।
লালবাজার থেকে দিল্লি— সর্বত্রই এখন এই চিঠির সারমর্ম নিয়ে চলছে জোর চর্চা। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এর কোনো উত্তর আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।





