বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজার আগেই নদিয়ায় বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। সিপিএমের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নবদ্বীপের ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করল তৃণমূল কংগ্রেস। পঞ্চায়েত প্রধান হবিজুল মণ্ডল-সহ সিপিএমের একাধিক সদস্য ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিতেই উল্টে গেল গাণিতিক সমীকরণ। ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেখানে তৃণমূল ছিল তৃতীয় স্থানে, আজ তারাই বসল চালকের আসনে।
কীভাবে বদলাল সংখ্যাতত্ত্ব?
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের ফল অনুযায়ী এই বোর্ডের চেহারা ছিল অনেকটা এরকম:
সিপিএম: ৮ জন সদস্য (বোর্ড গঠন করেছিল)
বিজেপি: ৬ জন সদস্য
তৃণমূল: ৩ জন সদস্য
নির্দল: ১ জন সদস্য
কিন্তু রাজনীতির খেলায় পাশা উল্টে যায় বৃহস্পতিবার। নবদ্বীপ পুরসভার প্রধান বিমানকৃষ্ণ সাহা এবং নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে সিপিএমের প্রধান হবিজুল মণ্ডল এবং আরও এক সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। এর আগেই আরও দুই সিপিএম সদস্য দলবদল করেছিলেন। ফলে বর্তমানে তৃণমূলে সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬-এ, যা বোর্ড দখলের জন্য যথেষ্ট।
তৃণমূলের দাবি বনাম সিপিএমের পাল্টা তোপ
নবদ্বীপের পুরপ্রধান বিমানকৃষ্ণ সাহার দাবি, “মানুষ বিজেপিকে রুখতে এবং মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের শরিক হতে দলে দলে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। আগামী দিনে আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে।”
অন্যদিকে, এই ভাঙন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সিপিএম নেতা সুমিত বিশ্বাস। তাঁর পাল্টা কটাক্ষ:
“তৃণমূলের কাজই হলো দল ভাঙানো আর প্রলোভন দেখানো। মানুষের রায়কে অপমান করে এভাবে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। খুব শীঘ্রই গোটা তৃণমূল দলটাই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।”
পুরানো ছকেই কি বাজিমাত?
পঞ্চায়েত নির্বাচনে সবুজ ঝড় উঠলেও বেশ কিছু জায়গায় বাম-বিজেপি অলিখিত জোট বা একক ক্ষমতায় বোর্ড গড়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু বীরভূমের জাজিগ্রাম থেকে নদিয়ার ভালুকা— বারবার দেখা যাচ্ছে দলবদলের জেরে সেই বোর্ডগুলি শেষ পর্যন্ত শাসকদলের দখলেই চলে যাচ্ছে। বিধানসভা ভোটের আগে এই জয় নবদ্বীপ কেন্দ্রে তৃণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





