প্রথম দফায় ৯২.৭% ভোট! দুই ফুলের ঘুম কাড়ল আম জনতা, দ্বিতীয় দফাতেও কি একই খেলা?

২০২৬-এর মহাযুদ্ধের প্রথম অঙ্ক শেষ। কিন্তু প্রথম দফার ভোট মিটতেই রাজনৈতিক অংকে বড়সড় গোলমাল শুরু হয়েছে। বাংলার ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে বৃহস্পতিবার যা ভোট পড়েছে, তা স্বাধীনতার পর থেকে এ রাজ্যে রেকর্ড। প্রায় ৯২.৭২ শতাংশ মানুষ নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। আর এই বিপুল পরিমাণ ভোটদানই এখন রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে ঘাসফুল এবং পদ্ম— দুই শিবিরের হেভিওয়েটদের।

দুই পক্ষেরই জয়ের দাবি: সাধারণত ভোট বেশি পড়লে তাকে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বা ‘সরকার বিরোধী ভোট’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়। সেই সূত্র ধরে বিজেপি দাবি করছে, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটাতেই মানুষ ঘর থেকে দলে দলে বেরিয়ে এসেছেন। পাল্টা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর উন্নয়ন এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পকে রক্ষা করতেই মহিলারা রেকর্ড হারে ভোট দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের কী মত? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মোটেও সাধারণ নয়। একদিকে যেমন দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রায় ৯৫% ভোট পড়েছে, তেমনই বীরভূম ও কোচবিহারেও পারদ ছিল তুঙ্গে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন:

  • সাইলেন্ট ভোটার: বড় কোনো গোলমাল ছাড়া এত বেশি ভোট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে একটি বড় অংশ নিঃশব্দে কোনো এক পক্ষকে সমর্থন করেছে।

  • দিশেহারা নেতৃত্ব: সাধারণত ভোট শতাংশ বাড়লে কার লাভ বা কার ক্ষতি, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির নিজস্ব সমীক্ষা থাকে। কিন্তু ৯২ শতাংশের উপরে ভোট পড়লে সেই সমীকরণ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে আইপ্যাক বা বিজেপির নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্টরা।

দ্বিতীয় দফার চ্যালেঞ্জ: আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। কলকাতা ও তার আশেপাশের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফার এই ‘জনতার খেলা’ দেখে দ্বিতীয় দফার ভোটাররাও যে উৎসাহিত হবেন, তা বলাই বাহুল্য। শাসক ও বিরোধী সবপক্ষই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিচ্ছে— “জিতুক মানুষই”।

উপসংহার: তীব্র দহনজ্বালা উপেক্ষা করে বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন, গণতন্ত্রের উৎসবই শ্রেষ্ঠ। ৪ মে ফল প্রকাশের দিনই স্পষ্ট হবে, এই বিপুল জনজোয়ার কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল। তবে আপাতত সবার নজর ২৯ তারিখের হাই-ভোল্টেজ দ্বিতীয় দফার দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy