২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে গণতন্ত্রের উৎসবে সব রেকর্ড চুরমার করে দিল পশ্চিমবঙ্গ। বিকেল ৩টের ট্রেন্ড বজায় রেখে ৫টা বাজতেই ভোটদানের হার প্রায় ৯০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলল। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার নজরকাড়া পরিসংখ্যানকেও ছাপিয়ে গিয়েছে দ্বিতীয় দফার উন্মাদনা।
এক নজরে ৫টার মেগা আপডেট
বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যের সামগ্রিক চিত্রটি ছিল অবিশ্বাস্য। প্রথম দফায় এই সময়ে ভোট পড়েছিল ৮৯.৯৩ শতাংশ, সেখানে দ্বিতীয় দফায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯.৯৯ শতাংশে। অর্থাৎ, ৯টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটদানের হার কার্যত ৯০ শতাংশের ঘর স্পর্শ করেছে।
জেলাভিত্তিক ভোটের পরিসংখ্যান:
পূর্ব বর্ধমান: ৯২.৪৬% (রাজ্যে সর্বোচ্চ)
হুগলি: ৯০.৩৪%
নদিয়া: ৯০.২৮%
উত্তর ২৪ পরগনা: ৮৯.৭৪%
হাওড়া: ৮৯.৪৪%
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৮৯.৫৭%
কলকাতা উত্তর: ৮৭.৭৭%
কলকাতা দক্ষিণ: ৮৬.১১% (রাজ্যে সর্বনিম্ন)
রেকর্ড ভাঙা বর্ধমান, পিছিয়ে তিলোত্তমা
এবারের ভোটে গ্রামবাংলার দাপট চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলা ৯২ শতাংশের গণ্ডি পেরিয়ে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণে ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও, গত কয়েক বছরের নিরিখে তা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
ভোটের এই বিপুল হার দেখে রাতের ঘুম উড়েছে সব শিবিরের হেভিওয়েটদেরই। সাধারণত বিপুল ভোটদান মানেই শাসক বা বিরোধী— যে কোনো এক পক্ষের অনুকূলে বড়সড় ঝোড়ো হাওয়ার সংকেত। ২০১১-র পরিবর্তনের রেকর্ড ইতিমধ্যেই ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই— ৪ মে ইভিএম বক্স থেকে কার ভাগ্য খুলবে?
বাংলার ইতিহাসে এই রেকর্ড ভাঙা ভোটদান কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং রাজপথ থেকে বুথ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের এক অলিখিত গর্জন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।





