“আমরা ভারতীয়দের চাকরি দিই না!” মার্কিন রেস্তোরাঁর মালিকের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বুকে এক ভারতীয় রেস্তোরাঁকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র বিতর্ক। রেস্তোরাঁর নাম ‘সেভেন মঙ্কস ক্যাফে’। খাবার ভারতীয়, মালিক ভারতীয়, অথচ স্বয়ং মালিক রশ্মি ভাটের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি সরাসরি দাবি করেছেন— “আমি আমার রেস্তোরাঁয় ভারতীয়দের চাকরি দিই না।” এই মন্তব্যের পরই ভারতীয় নেটদুনিয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কেন এই বিবাদ?
বিদেশের মাটিতে আমরা সাধারণত খাঁটি স্বাদের প্রত্যাশায় ভারতীয় রেস্তোরাঁগুলোতে যাই। সেখানে কর্মীরাও যদি ভারতীয় হন, তবে সেই পরিবেশটা আরও আপন মনে হয়। কিন্তু টেক্সাসের এই রেস্তোরাঁটি ভিন্ন কিছু করার প্রয়াসে নিজেদের জন্যই বিপত্তি ডেকে এনেছে। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা মালিকের সেই ভিডিওতে তাঁর গলার স্বরে যে স্পষ্টতা ছিল, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি নেটিজেনরা। রেস্তোরাঁটি ভারতীয় ঘরানার হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন জাতিগত বিভাজন? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মালিকের সাফাই ও বিতর্কের নতুন মোড়:
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। চাপে পড়ে রেস্তোরাঁর মালিক রশ্মি ভাট ক্যাপশনে নতুন করে ব্যাখ্যা দেন। তিনি লেখেন, “আমরা ভারতীয়সহ শুধুমাত্র যোগ্য ব্যক্তিদেরই নিয়োগ করি।” তিনি দাবি করেছেন যে, অন্যান্য রেস্তোরাঁ নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি যে বৈষম্য করে, তিনি তা করতে চান না। তবে নেটিজেনদের মতে, এই ব্যাখ্যা নিতান্তই লোক দেখানো। ভিডিওর শুরুতে ভিউ পাওয়ার জন্য যে বিতর্কিত ও আপত্তিকর লাইন তিনি ব্যবহার করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ক্ষোভের আসল কারণ:
নেটিজেনদের অভিযোগ, শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ এবং এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য মালিক এই ধরণের আপত্তিকর পথ বেছে নিয়েছেন। রেস্তোরাঁর মালিক দাবি করেছেন তিনি মানসিকতা পরিবর্তনের কথা বলছেন, অথচ তাঁর শুরুর কথাটি ছিল সরাসরি ভারতীয়দের বিরুদ্ধে। এই দ্বিমুখী আচরণই মানুষের রাগ বাড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রেস্তোরাঁটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ট্রোলিং ও বয়কটের ডাকের সম্মুখীন হচ্ছে।

অনেকেই বলছেন, ব্যবসার স্বার্থে নিজের শিকড়কে অস্বীকার করা বা নিজের দেশের মানুষদের অপমান করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। একদিকে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয়দের কাজের দক্ষতার প্রশংসা হয়, তখন নিজেরই রেস্তোরাঁয় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল। ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ভুল পথে ভিউ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কীভাবে নিমেষেই সুনাম নষ্ট করতে পারে। আপাতত এই বিতর্কের জেরে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো ব্যাকফুটে দেখা যাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy