প্রতিদিন কুকার ব্যবহার করেন? সাবধান! এই ভুলগুলো আপনার রান্নাঘরকে বোমা বানিয়ে দিতে পারে

ভারতীয় রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো প্রেশার কুকার। ডাল থেকে বিরিয়ানি—সময় বাঁচাতে গৃহিণীদের প্রধান ভরসা এটি। কিন্তু এই কাজের জিনিসটিই অসতর্কতার কারণে হয়ে উঠতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ। প্রেশার কুকার সচরাচর হুট করে বিস্ফোরিত হয় না; বরং রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং ভুল পদ্ধতির কারণেই ঘটে বিপত্তি। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে আপনি সহজেই আপনার রান্নাঘরকে নিরাপদ রাখতে পারেন।

প্রথমেই নজর দিতে হবে কুকারের হুইসেল ও সেফটি ভালভের দিকে। এটি কুকারের প্রাণকেন্দ্র। যদি হুইসেলের ছিদ্র বা ভালভে খাবারের কণা বা ময়লা জমে থাকে, তবে বাষ্প বের হতে বাধা পায়। বাষ্প আটকে গিয়ে কুকারের ভেতরে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, যা বিস্ফোরণের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই প্রতিটি রান্নার পর হুইসেল এবং ভালভ পরিষ্কার আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।

দ্বিতীয়ত, কুকারের রাবার গ্যাসকেট বা রিং-এর দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই রাবার শক্ত হয়ে যায় বা ঢিলে হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে গ্যাসকেট ফেটে বা ছিঁড়ে গিয়ে ঢাকনা ঠিকমতো আটকাতে বাধা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে কুকারের ভেতর প্রেশার তৈরি হলেও তা লিক করতে থাকে, যা বিপজ্জনক। প্রতি ছয় মাস অন্তর গ্যাসকেট পরিবর্তন করার অভ্যাস করুন।

তৃতীয়ত, কুকার অতিরিক্ত ভর্তি করা থেকে বিরত থাকুন। তাড়াহুড়োর সময় অনেকে কুকারের কানায় কানায় খাবার ও জল ভরেন। মনে রাখবেন, কুকারে খাবার রান্নার জন্য বাষ্পের জায়গা প্রয়োজন। অতিরিক্ত খাবার ভরলে সেফটি ভালভের মুখ আটকে যেতে পারে, যা বিস্ফোরণের বড় কারণ। সবসময় কুকারের ধারণক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত খাবার পূর্ণ করুন।

চতুর্থত, জলের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখুন। কুকারে প্রয়োজনীয় জল না থাকলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এতে খাবার যেমন পুড়ে যায়, তেমনি কুকারের ধাতব কাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। রেসিপি অনুযায়ী সঠিক অনুপাতে জল ব্যবহার করুন।

সবশেষে, কুকারের নিয়মিত যত্ন নিন। অনেকদিন ধরে কুকার ব্যবহার করলে এর ঢাকনা বা নিচের অংশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কোনো ফাটল বা অস্বাভাবিক আকার পরিবর্তন দেখলে তা আর ব্যবহার করবেন না। রান্নাঘরে তাড়াহুড়োর চেয়ে নিরাপত্তার গুরুত্ব অনেক বেশি। সঠিক সতর্কতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই পারে আপনার পরিবারকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করতে।