গ্রেফতারির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন সিংভির, পুর নিয়োগ মামলায় কবে মিলবে সুজিতের মুক্তি?

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আর্জি জানালেও আপাতত মিলল না স্বস্তি। সোমবার আদালতে সুজিত বসুর জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১ জুলাই। আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে। দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তলব করা হয় সুজিত বসুকে। গত ১১ মে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তখন থেকেই জেলবন্দি রয়েছেন তিনি। এই গ্রেফতারির আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুজিত বসুর আইনি প্রতিনিধি তথা প্রখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি।

সোমবার আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে অভিষেক মনু সিংভি কেন্দ্রীয় এজেন্সির কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, “এই মামলাটি ২০২৩ সালে দায়ের করা হয়েছে। অথচ গত সাড়ে তিন বছরে তদন্তকারী সংস্থা একবারের জন্যও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকেনি। তিনি দীর্ঘকাল জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। গত মে মাসে মাত্র দু’বার তলব করা হয় এবং দ্বিতীয়বার হাজিরা দিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারির বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়?”

সিংভির এই সওয়ালের পাল্টা জবাবে ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, গ্রেফতারি ও তদন্তের প্রেক্ষাপট নিয়ে ইডির বিস্তারিত অবস্থান আদালতকে জানানো প্রয়োজন। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ইডিকে আগামী ২৯ জুনের মধ্যে তাদের বক্তব্য বা হলফনামা আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে, ১ জুলাইয়ের শুনানির আগে প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিন পাওয়ার পথ আপাতত বন্ধ।

উল্লেখ্য, সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদের সময় থেকেই সুজিত বসুর গ্রেফতারির জল্পনা ঘনীভূত হয়েছিল। ১ মে প্রথমবার হাজিরা দেওয়ার সময় তিনি কিছুটা সময় পেলেও, ১১ মে হাজিরা দিতেই ইডির জালে জড়িয়ে পড়েন। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের এক প্রথম সারির নেতার এই দীর্ঘ জেলবাস তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন ১ জুলাইয়ের শুনানিতে আদালত কী রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্য রাজনীতি।