প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপ, হিমাচলে ৪৫০-এর বেশি মৃত্যু, নিখোঁজ ৪৭; ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪,৮৬১ কোটি টাকা!

হিমাচল প্রদেশের ভয়াবহ বর্ষায় গত ২০ জুন থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৪৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে ভূমিধস, হড়পা বান, মেঘভাঙা বৃষ্টি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং বজ্রপাতে। বাকি ১৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (SDMA)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৪৯৭ জন আহত এবং ৪৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া, ২,৫১১টিরও বেশি গবাদি পশু এবং ২৬,৯৫৬টি পাখি মারা গেছে।

এশিয়ানেট নিউজএবল-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্ষার তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের সম্পত্তি ও পরিকাঠামোয়। মোট ১,৮০৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ২৯,৪৬৬টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, ৬৬৫টি দোকান/কারখানা, ১,০৪৬টি গোয়ালঘর এবং ২,৩৪৪টি শ্রমিকের কুটির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকারি পরিকাঠামোয় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪,৮৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পূর্ত বিভাগে (৩,০০১.৫ কোটি টাকা), এরপরই রয়েছে সেচ, জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষি পরিকাঠামো।

২৩ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত, ভূমিধস ও ধসের কারণে ৩৩৮টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে, যার মধ্যে দুটি জাতীয় সড়ক (NH-03 এবং NH-503A) রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে, ৪৫টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফর্মার (DTR) অচল হয়ে পড়েছে এবং ৭৭টি পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পও বন্ধ রয়েছে। জেলার হিসেবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুল্লু (১০৬), মান্ডি (১০৯) এবং কাংড়া (৪০)। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মান্ডি (১১) এবং কুল্লু (১৩)। জল সরবরাহ প্রকল্পে মান্ডি (৪১) এবং শিমলা (১২) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসডিএমএ-র এক কর্মকর্তা জানান, রাস্তা, জল সরবরাহ প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো মেরামতের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে, কিন্তু ভূমিধস ও হড়পা বানের কারণে কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সংস্থাটি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে অনুরোধ করেছে এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত জানানোর কথা বলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।