দিনভর টানটান উত্তেজনা আর জল্পনার পর অবশেষে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোলেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। পুর-দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)-র তলবে এদিন হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল, আর যখন তিনি বেরোলেন তখন রাত ৮টা বেজে ১৮ মিনিট। প্রায় ৯ ঘণ্টার দীর্ঘ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মন্ত্রীর চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি কী বললেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
৯ ঘণ্টায় কী কী ঘটল? সূত্রের খবর, এদিন সকাল থেকেই সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরে জেরা শুরু করেন ইডি আধিকারিকরা। পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সুজিত বসুকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল তৈরি করে দফায় দফায় জেরা করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ৯ ঘণ্টার এই দীর্ঘ সময়কালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির বয়ানও মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
সিজিও থেকে বেরিয়ে কী বললেন মন্ত্রী? ৯ ঘণ্টা পর যখন সুজিত বসু বাইরে আসেন, তখন ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তদন্তে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং আধিকারিকরা যা জানতে চেয়েছেন তার উত্তর দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
কোন পথে তদন্তকারী সংস্থা? রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ইডি-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ৯ ঘণ্টার এই জেরা কি স্রেফ রুটিন মাফিক ছিল, না কি এর আড়ালে বড় কোনো তথ্য হাতে এসেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির? পুর-দুর্নীতি মামলায় ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুজিত বসুর এই দীর্ঘ জেরা কি সেই তদন্তে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসবে? প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।
পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে শাসক দলের ওপর বিরোধী শিবিরের চাপ যখন বাড়ছে, তখন সুজিত বসুর এই সিজিও হাজিরা এবং দীর্ঘ জেরা তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী কয়েক দিনে এই মামলার জল কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।





