গণনার আগে কার্যত দুর্গ! ১০ ফুট উঁচু লোহার পাঁচিল আর ১৬৩ ধারা— কী হচ্ছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে?

২০২৬-এর মেগা নির্বাচনের অন্তিম ফলাফল ঘোষণার প্রহর গুনছে বাংলা। কিন্তু তার আগেই রাজ্যের স্ট্রংরুমগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা দেখে কার্যত তাজ্জব রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এখন এক নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত হয়েছে। কারচুপির আশঙ্কা আর নিরাপত্তার খাতিরে সেখানে তৈরি করা হয়েছে ১০ ফুট উঁচু বিশালাকার লোহার পাঁচিল!

দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয়: ভোট মিটলেও উত্তেজনা একবিন্দু কমেনি। বরং ইভিএমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে নজর কেড়েছে প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ— স্ট্রংরুমের প্রবেশপথ এবং চারপাশ জুড়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে আকাশছোঁয়া লোহার পাঁচিল। মূলত বাইরের কারও নজর বা অনভিপ্রেত অনুপ্রবেশ রুখতেই এই নজিরবিহীন ব্যারিকেড।

জারি ১৬৩ ধারা: নিরাপদ ব্যবস্থার পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণেও কড়া দাওয়াই দিয়েছে প্রশাসন। ওই এলাকায় ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৬৩ ধারা (আগে যা ছিল ১৪৪ ধারা)। এর ফলে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের আশেপাশে একসাথে চার জনের বেশি জমায়েত হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, রাজনৈতিক কর্মীদের ভিড় বা কোনো ধরণের জমায়েতের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকছে গণনার দিন পর্যন্ত।

কেন এই অতি-সতর্কতা? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে টানটান উত্তেজনা ও আশঙ্কার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি লোহার দেওয়াল নিরাপত্তার অতিরিক্ত স্তর হিসেবে কাজ করবে। এমনকি প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে সিসিটিভি ফুটেজে নজর রাখতে পারলেও, মূল স্ট্রংরুমের কাছে ঘেঁষার কোনো উপায় নেই।

উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে: শনিবারের গণনার জন্য শহর কলকাতার এই প্রাণকেন্দ্র এখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার এই বজ্রআঁটুনি বজায় থাকবে ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত। একদিকে ১০ ফুট উঁচু দেওয়াল, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বন্দুকের নল— এই দুইয়ের মাঝেই এখন বন্দি বাংলার আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য।

সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর ফল ঘোষণার আগে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এখন এক দুর্ভেদ্য কেল্লা। রাজনৈতিক দলগুলো এখন কেবল ঘড়ি দেখার অপেক্ষায়— লোহার দেওয়াল পেরিয়ে কার জয়ের বিজয় মিছিল বের হয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy