পেট্রোল পাম্প কিনে দেওয়ার নামে ২৯ লক্ষ টাকা প্রতারণা, মিষ্টির দোকান থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন BSF জওয়ান

প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক তরুণীর থেকে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে এক প্রাক্তন বিএসএফ (BSF) জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রায় দেড় বছর ধরে পলাতক থাকার পর তিনি বেহালার একটি মিষ্টির দোকানে ছদ্মবেশে কাজ করছিলেন। অবশেষে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ তাকে জালে ধরেছে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম গৌতম হালদার, তার বাড়ি নদিয়ার তেহট্টে। তিনি রাজারহাটে বিএসএফ-এর কনস্টেবল হিসেবে কাজ করতেন। গড়িয়াহাটের ডোভার লেনে একটি অনুষ্ঠানে এক তরুণীর সঙ্গে গৌতমের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। এই সম্পর্কের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে গৌতম ওই তরুণীকে বোঝান যে, তাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি পেট্রোল পাম্প কিনতে হবে। পাম্প কেনার অজুহাতে তিনি তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা নেন। টাকা পাওয়ার পর পরই গৌতম তরুণীর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং গা-ঢাকা দেন।

পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতার

তরুণী গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। জানা যায়, গৌতমের মোবাইল ফোন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। কিন্তু পুলিশ তার কিছু পরিচিতের কল লিস্ট ধরে এগোতে থাকে এবং জানতে পারে যে, সে অন্য একটি নম্বর ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল।

এই সূত্র ধরেই পুলিশ খবর পায় যে, গৌতম বেহালার বুড়োশিবতলায় একটি মিষ্টির দোকানে ম্যানেজারের কাজ করছে। গড়িয়াহাট থানার ওসি অঞ্জন সেনের নির্দেশে এবং অফিসার অভিষেক সিং-এর নেতৃত্বে পুলিশ সেখানে হানা দেয় এবং গৌতমকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।

স্ত্রীর নিখোঁজ ডায়েরি

জানা গেছে, গৌতম প্রায় দেড় বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন, এবং তার স্ত্রী নদিয়ার তেহট্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। এমনকি বিএসএফ গোয়েন্দারাও তাকে খুঁজছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার টাকা কোথায় আছে, তা জানতে গৌতমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং পালিয়ে থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।