বাবার নাম বদলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগ, রাজ্যে ফের ‘ভুয়ো ভোটার’ বিতর্ক

গাইঘাটার পর এবার বাগদা। সেখানে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, যেখানে এক ভোটারের এপিক নম্বর ব্যবহার করে অন্য এক ব্যক্তি নিজের নাম তুলেছেন। একইসঙ্গে, বিজেপি নেতা দুলাল বর অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশের কিছু নাগরিক ভুয়ো তথ্য দিয়ে বাগদার ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম ঢুকিয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বাগদার রানিহাটি গ্রামের বাসিন্দা প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন যে, তিনি গত উপনির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে দেখেন, ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। পরে তিনি জানতে পারেন যে, তার এপিক নম্বরটি এক রেখে বাবার নাম এবং ঠিকানা বদলে দিয়ে রাজারহাটের এক ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। নিজের ভোটার কার্ড ফিরে পেতে তিনি বাগদা ব্লক প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা এবং বাগদার প্রাক্তন বিধায়ক দুলাল বর অভিযোগ করেছেন, বয়রা পঞ্চায়েতের একাধিক বুথে মোট ৭৭৫ জন ভুয়ো ভোটার রয়েছে। তার দাবি, এরা বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি অভিযোগ করেন, এক তৃণমূল নেতার মামা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাকে বাবা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়েছে। একইভাবে, আরেক ব্যক্তি তার শ্বশুরকে বাবা সাজিয়ে ভোটার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন দুলাল বর।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের একজন মিজানুর রহমান খান স্বীকার করেছেন যে, অভিযুক্ত মাসুদ খান তার জামাই এবং বর্তমানে বাংলাদেশে থাকেন। তবে তৃণমূল নেতা জাভেদ খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার এমন কোনো মামা নেই এবং ভুলবশত নাম এসে থাকলে তা বাদ দেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনকে জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে বাগদার বিডিও প্রসূন প্রামাণিক জানান, এ ধরনের দু-তিনটি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বিজেপির এই অভিযোগকে ‘প্রচারের কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই ঘটনায় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই সমস্যার সমাধান কীভাবে করে।