পেট্রোল-ডিজেলের দাম কি কমবে? কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তায় বড় ধাক্কা সাধারণ মানুষের!

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত কয়েক সপ্তাহে নিম্নমুখী হলেও, ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম এখনই কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী যে বার্তা দিয়েছেন, তা আমজনতার জন্য খানিকটা হতাশাজনক। মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম কমানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামকে টানা কয়েক সপ্তাহ স্থিতিশীল থাকতে হবে।

কেন বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ভারতে সুফল মিলছে না? এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হরদীপ সিং পুরী জানান, তেল বিপণন সংস্থাগুলো সাধারণত অপরিশোধিত তেল দুই মাস আগে থেকেই বুক করে রাখে। ফলে বর্তমানে যে তেল পরিশোধন করা হচ্ছে, তা মূলত আগে চড়া দামে কেনা মজুত থেকেই আসছে। জুন মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে দাম কমলেও, তার প্রভাব ভারতে পড়তে কিছুটা সময় লাগবে। তবে বাজার যদি ক্রমাগত নিম্নমুখী থাকে, তবেই ভবিষ্যতে দাম কমানোর বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হবে।

জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ৭৬ থেকে ৮০ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। বন্দর, টার্মিনাল, রিফাইনারি এবং কৌশলগত মজুতাগারে এই তেল সংরক্ষিত থাকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। হরদীপ পুরীর কথায়, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে স্টোরেজ ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তেল কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সময় জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে সংস্থাগুলোকে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। চলতি সময় পর্যন্ত পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি বিক্রিতে তেল বিপণন সংস্থাগুলোর মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪,৭৮১ কোটি টাকায়। অতীতে এই বিপুল আর্থিক লোকসান সহ্য করেও সাধারণ মানুষের ওপর দামের বোঝা সেভাবে চাপানো হয়নি বলে দাবি মন্ত্রীর।

উল্লেখ্য, গত জুনের দ্বিতীয়ার্ধে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা থিতু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থায়িত্ব ফিরে এসেছে। এর আগে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে সেই অস্থিরতা কমলেও, ভারতে খুচরো বাজারে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেনি। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক বাজার কেমন আচরণ করে এবং তার ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানির দামে কোনো সুখবর দেয় কি না।