পেট্রোল ও ডিজেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের। গত ১০-১৩ দিনে জ্বালানির দাম চারবার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সারা দেশে পেট্রোল ১০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। ২৮ মে, ২০২৬, বৃহস্পতিবারও দেশের বেশিরভাগ শহরে জ্বালানির চড়া দাম বজায় রয়েছে। দিল্লিতে পেট্রোলের দাম পৌঁছেছে ১০২ টাকা ১২ পয়সায়, যা মধ্যবিত্তের পারিবারিক বাজেটে বড়সড় আঘাত হেনেছে।
মূল্যবৃদ্ধির এই কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতাকে দায়ী করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গ্লোবাল এনার্জি মার্কেটে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয়, ভারতসহ আমদানিকারক দেশগুলোতে খুচরো বাজারে এর ফল মারাত্মক। পাশাপাশি, ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির ক্রমাগত অবমূল্যায়ন আমদানি খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দেশের মেট্রো শহরগুলোর দিকে তাকালে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। মুম্বাইতে পেট্রোল এখন ১১১ টাকা ২১ পয়সা, কলকাতায় ১১৩ টাকা ৪৭ পয়সা এবং চেন্নাইতে ১০৮ টাকা ২০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গাড়ি নয়, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শাকসবজি, দুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। অটো ও ক্যাব চালকদের আয়ের সিংহভাগ এখন ব্যয় হচ্ছে শুধু জ্বালানির পেছনেই।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, যদি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পায়, তবে আগামী দিনগুলোতে এই জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ চার বছর পর এভাবে জ্বালানির দামের ক্রমাগত সংশোধন ও মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা জাগিয়েছে। সব মিলিয়ে, তেলের এই আগুন দাম কবে কমবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।





