বকরি ঈদের খুশিতে ভাসল দেশ; মোদি, মুর্মু ও রাহুল গান্ধির শুভেচ্ছাবার্তায় সম্প্রীতির বার্তা

পবিত্র ঈদ-উল-আজহা তথা বকরি ঈদের উৎসবে মেতেছে গোটা দেশ। ভ্রাতৃত্ব, ত্যাগ ও মানবতার বার্তাকে সঙ্গী করে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে উৎসবের উদযাপন। এই পুণ্য লগ্নে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি-সহ দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “ঈদ-উল-আজহা ত্যাগের এক অনন্য প্রতীক। এই উৎসব আমাদের সমাজের বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে। আসুন, এই দিনে আমরা ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার সংকল্প নিই।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, “ঈদ-উল-আজহার অনেক অনেক শুভকামনা। এই দিনটি আমাদের সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও আনন্দের বাতাবরণকে আরও গভীর করুক। সকলের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি।”

অন্যদিকে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি আন্তরিক ভাষায় শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁর এক্স পোস্টে লেখেন, “আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে আনন্দমুখর বকরি ঈদের শুভেচ্ছা। আজকের এই দিনটি আপনাদের জীবনে উষ্ণতা ও প্রিয়জনদের সান্নিধ্য বয়ে আনুক। ঈদ মোবারক।” কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরাও এই উৎসবে দেশবাসীকে শান্তি ও সমৃদ্ধির শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

‘ত্যাগের উৎসব’ হিসেবে পরিচিত ঈদ-উল-আজহা ইসলামি ক্যালেন্ডারের জিলহজ মাসের দশম দিনে উদযাপিত হয়। হাজার বছর আগে নবী ইব্রাহিমের পরম ত্যাগের নিদর্শন ও আল্লাহর প্রতি তাঁর অটল নিষ্ঠাকে সম্মান জানাতেই এই উৎসব পালিত হয়। কুরবানির মূল সার্থকতা কেবল ধর্মানুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কুরবানির মাংস পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব এবং বিশেষ করে দুঃস্থ ও অভাবী মানুষের মধ্যে বিতরণ করার মাধ্যমে সামাজিক সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসব টানা তিন দিন ধরে পালিত হয়। ঈদের প্রাক্কালেই মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে বিশেষ নামাজের জন্য ভিড় জমিয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন আপামর জনতা। ত্যাগের এই মহান দিনে হিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে শান্তির জয়গান গাইছে সারা দেশ।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে আজ সব স্তরের মানুষ একসঙ্গে উৎসবে শামিল হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী নেতাদের এই ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেশজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও একতার বার্তাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। উৎসবের এই দিনে আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের হাত ধরেই এগিয়ে চলুক দেশ, এই প্রার্থনাই এখন সবার মুখে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy