পৃথিবীর ওপরে ৭ আর নিচে ৭ লোক! মহাবিশ্বের এই ১৪টি জগতে আসলে কারা বাস করেন জানেন?

হিন্দুধর্মের পৌরাণিক বিশ্বাস এবং শাস্ত্রীয় অনুশাসনে মহাবিশ্বের গঠন নিয়ে বহু রহস্যময় ও গভীর তথ্য রয়েছে। সনাতন সংস্কৃতি অনুসারে, আমাদের এই বিশাল ব্রহ্মাণ্ড বা মহাবিশ্বকে মোট ১৪টি ভিন্ন জগতে বিভক্ত করা হয়েছে, যাকে একত্রে ‘চতুর্দশ ভুবন’ বলা হয়।
শাস্ত্র মতে, এই চৌদ্দটি জগতের মধ্যে ঠিক ৭টি লোক পৃথিবীর ওপরে এবং বাকি ৭টি লোক পৃথিবীর ঠিক নিচে অবস্থিত। আর এই সমস্ত জগতের ঠিক মাঝখানে বা কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে আমাদের এই পৃথিবী, যাকে ‘ভূলোক’ বা ‘মৃত্যুলোক’ বলে অভিহিত করা হয়। কোন কোন জগৎ রয়েছে এই তালিকায় এবং সেখানে কাদের বসবাস, তা নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই।
পৃথিবীর ওপরে থাকা ৭টি ঊর্ধ্বলোক: পৃথিবীর ওপরের দিকে অবস্থিত সাতটি উচ্চতর স্তরকে ‘ঊর্ধ্বলোক’ বলা হয়। নিচ থেকে ওপরের ক্রমানুসারে এগুলি হলো: ১. ভূলোক: এটি আমাদের পৃথিবী, যেখানে মানবজাতিসহ নানা জীবকূলের বসবাস। ২. ভুবলোক: এটিকে মূলত মহাকাশ বা নক্ষত্র ও গ্রহের অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয়। ৩. স্বর্গলোক: দেবরাজ ইন্দ্র এবং অন্যান্য দেব-দেবীর বিলাসবহুল আবাসস্থল এটি। ৪. মহর্লোক: মহান ঋষি ও উচ্চমার্গীয় তপস্বীদের বাসস্থান। ৫. জনলোক: ব্রহ্মবাদী ঋষিদের আবাসস্থল বলে এটি পরিচিত। ৬. তপোলোক: চার কুমার এবং বিশিষ্ট তপস্বীদের সাধনার স্থান। ৭. সত্যলোক বা ব্রহ্মলোক: এটি এই ১৪টি লোকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান, যেখানে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা ও দেবী সরস্বতী বিরাজ করেন।
পৃথিবীর নিচে অবস্থিত ৭টি পাতালপুরী: ভূগর্ভের নিচের দিকে যে সাতটি লোক রয়েছে, সেগুলিকে একত্রে পাতাল বা নিম্নলোক বলা হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই লোকগুলিতে অসুর, রাক্ষস, দৈত্য এবং নাগদের বসবাস: ১. অতল লোক: এখানে মহাদেব শিবের গণদের প্রধান বল নামক অসুর বাস করেন। ২. বিতল লোক: ভগবান শিবের হাটকেশ্বর রূপের আবাসস্থল এটি। ৩. সুতল লোক: অসুর রাজ প্রহ্লাদের নাতি তথা বিষ্ণুভক্ত রাজা বালির রাজ্য। ৪. তালতল লোক: অসুরদের মহান স্থপতি ও প্রকৌশলী মায়াসুরের বাসস্থান। ৫. মহাতল লোক: বহু ফণাবিশিষ্ট শক্তিশালী ও বিশাল সর্পকূলের আবাস। ৬. রসাতল লোক: পরাক্রমশালী অসুর ও রাক্ষস জাতির বাসস্থান। ৭. পাতাল লোক: সপ্ত জগতের সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে বাসুকিসহ বহু প্রকাণ্ড সর্পরাজ বাস করেন। রত্নমণির আলোর কারণে এই পাতালপুরী অন্ধকারমুক্ত থাকে বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই পৌরাণিক বিশ্বাস ও লোককথাগুলি সনাতন cosmology বা মহাবিশ্বের রূপরেখাকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।