২৬ বছর পর এল ন্যায়বিচার! ২০০০ সালের জোড়া হিংসার ঘটনায় ৭ অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ আদালতের!

অবশেষে দীর্ঘ ২৬ বছর পর আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে এক যুগান্তকারী রায় দিল উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত। ২০০০ সালের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ৭ জন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অপরাধীদের প্রত্যেকের ওপর ১ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা করে জরিমানা ধার্য করেছেন বিচারক। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত সাজাপ্রাপ্তকে পুলিশি হেফাজতে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কী ঘটেছিল ২০০০ সালের সেই দিনে? আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। ভোপা থানার অন্তর্গত ধেরাহেরি গ্রামে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী শত্রুতার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সেই সময় গ্রামের বাসিন্দা ধুম সিং ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জয়বিন্দর, রূপক এবং গৌতম নামে তিনজনকে আক্রমণ করে জোর করে নিজেদের বাড়ির দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে জয়বিন্দর তার পরিবারের লোকজনকে পুরো ঘটনাটি জানায়। এর পর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা ধুম সিংয়ের পরিবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এই নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলেই রবীন্দ্র নামের এক ব্যক্তি নিহত হন এবং আরও সাতজন গুরুতর জহন হন। ঘটনার পরই ভোপা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

আদালতের রায় ও নির্দেশ: দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট নম্বর ১-এর প্রিসাইডিং অফিসার জ্যোৎস্না সিওয়াচ এই গুরুত্বপূর্ণ রায়দান করেন। আদালতের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ৭ জন অপরাধী হলো— অনিল, রবীন্দ্র, নবাব, সঞ্জীব, পঙ্কজ, প্রীতম এবং বসন্ত। আদালত এদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিচার চলাকালীন মূল অভিযুক্ত ধুম সিংয়ের মৃত্যু হয় এবং পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে গুলবীর ও ওমবীর নামের অপর দুই অভিযুক্তকে খালাস দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন যে আদায়কৃত জরিমানার মোট টাকার ৫০ শতাংশ সরাসরি ভুক্তভোগী ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে।

সরকারি আইনজীবী রাজীব শর্মা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে মোট ১১ জন সাক্ষীকে আদালতে পেশ করা হয়েছিল। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য খতিয়ে দেখার পরেই আদালত এই কঠোর সাজা শুনিয়েছে, যা সমাজে অপরাধ দমনে শক্ত বার্তা দেবে বলেই মনে করছে আইনি মহল।