পূজায় ইলিশের আকাল! লোকসানের ভয়ে ভারত থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

মহালয়ার ভোরেই দেবীপক্ষের সূচনা, আর সেই সঙ্গে উৎসবের মরসুমে ইলিশের স্বাদে মজে উঠতে চেয়েছিলেন ভোজনরসিক বাঙালি। কিন্তু এবার পূজার বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে ইলিশ! কারণ, ভারতে ইলিশ পাঠাতে এবার নারাজ বাংলাদেশের ইলিশ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে যেমন পদ্মার ইলিশের দাম চড়া, তেমনই অন্যদিকে ভারতের বাজারে চাহিদা কম। এর ফলে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় ভুগছেন তাঁরা।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশালের মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, মরশুমের শুরুতে সেভাবে ইলিশ না ওঠায় মাছের পাইকারি দাম প্রতি কেজি প্রায় ২ হাজার টাকা। এরপর প্যাকেজিং এবং বেনাপোল পর্যন্ত পরিবহণ খরচ মিলিয়ে আরও ১০০-১৩০ টাকা খরচ হয়। অথচ বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতের জন্য ইলিশের রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি কেজি মাত্র ১২.৫ মার্কিন ডলার বা ১,৫২৫ টাকা। ফলে নির্ধারিত দামে মাছ বিক্রি করলে তাঁদের বিপুল লোকসান হবে।

শুধু দামের সমস্যাই নয়, অভিযোগ উঠেছে যে, ইতিমধ্যেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চোরাপথে ভারতে প্রচুর ইলিশ পাচার করে দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের বাজারের তুলনায় ভারতে ইলিশের সরবরাহ অনেক বেশি এবং দামও নাগালের মধ্যে। এ কারণে ভারতের আমদানিকারকরা এখন আর চড়া দামে পদ্মার ইলিশ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে, বাড়তি লোকসানের আশঙ্কায় বরিশালের ব্যবসায়ীরা এই বছর ভারতে মাছ রপ্তানি করতে নারাজ।

যদিও, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই বিষয়ে মোট ৩৭টি মৎস্য রপ্তানিকারক সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ইলিশ পাঠাতে। তবে ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে, উৎসবে ইলিশপ্রেমী বাঙালির পাতে পদ্মার ইলিশের দেখা মেলা এবার বেশ কঠিন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।