‘মহা সৌভাগ্যের বিষয়’, অমরনাথ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন চিঠি প্রধানমন্ত্রীর

শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বার্ষিক অমরনাথ যাত্রা। এই পবিত্র যাত্রার সূচনা লগ্নেই সকল শিবভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বিশেষ চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই যাত্রাকে তিনি ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক চিরন্তন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীরে পবিত্র অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। লক্ষ লক্ষ শিবভক্তের কাছে বাবা বরফানির দর্শন পাওয়ার এই সুযোগ এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের যে ছবি এই যাত্রাপথে ফুটে ওঠে, তা সত্যিই অসাধারণ।” তিনি যাত্রাকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, বিএসএফ, এনডিআরএফ-এর জওয়ানদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করেছেন।
এবারের যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী পুণ্যার্থীদের পাঁচটি বিশেষ ‘সংকল্প’ গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন:
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: তীর্থযাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছতার নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা।
নিয়ম মেনে চলা: প্রশাসনের নির্দেশিকা, ট্র্যাফিক আইন এবং সুরক্ষাবিধি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা। পাহাড়ি ও পিচ্ছিল রাস্তায় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ভোকাল ফর লোকাল: স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে যাত্রাপথে কেনাকাটার ক্ষেত্রে স্থানীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভ্রমণের খরচের অন্তত ১০ শতাংশ স্থানীয় সামগ্রীর পিছনে খরচ করলে তা উপত্যকার তরুণদের কর্মসংস্থানে সাহায্য করবে।
পরিবেশ রক্ষা: রাখিবন্ধনের দিন যাত্রা শেষ হবে। সেই উপলক্ষ্যে ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির অধীনে একটি করে চারাগাছ রোপণ করে পরিবেশ রক্ষায় সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয়তাবোধ: ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘দেশ প্রথম’ এই মন্ত্রকে পাথেয় করে সারা বছর নিজেদের দায়িত্ব পালন করা এবং ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার কাজে সক্রিয় অংশ নেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই বার্তার পর ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ও ভক্তিভাব আরও বেড়েছে। সুরক্ষাবলয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে আগামী দু’মাস ধরে চলবে এই তীর্থযাত্রা।