‘পুলিশের পুরনো অভ্যেস যায়নি’! স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত বিডিওর জামিনে তোপ মন্ত্রীর

স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত, অথচ পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিন ফেরার। মাস সাতেক আগে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পরেও অধরা ছিলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সম্প্রতি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। কিন্তু সেই গ্রেফতারির পর বারাসত আদালত থেকে রাতারাতি জামিন পেয়ে যাওয়ায় শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। এই ঘটনায় পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

মন্ত্রীর দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের গোপন আঁতাত বা ‘সেটিং’ রয়েছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেছি, এইসব লোকদের আপনারা অ্যারেস্ট করছেন না কেন? পুলিশ নাকি এদের খুঁজে পাচ্ছে না! অথচ দেখা যাচ্ছে, সন্ধ্যার সময় এরাই পুলিশের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছে।” পুলিশি ব্যবস্থার পুরনো অভ্যেস যে এখনও পুরোপুরি বদলায়নি, তা মন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট।

ঘটনার সূত্রপাত নিউটাউনের রাস্তায়। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন প্রশান্ত বর্মন। গাড়ি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও, প্রত্যক্ষদর্শী শামিম আহমেদ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরেন। ফেসবুক লাইভ করে গোটা ঘটনাটি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন তিনি। পুলিশ গ্রেফতার করলেও খুব দ্রুতই জামিনে মুক্তি পান এই ‘প্রভাবশালী’ বিডিও। প্রশ্ন উঠছে, এমন পরিস্থিতিতে শামিম আহমেদের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত?

তবে দিলীপ ঘোষ শান্ত করার সুরে বলেন, “অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে গেলেই খুন করে দেবে—সেই দিন আর নেই। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েনি, সবাই সুরক্ষিত আছেন।” একই সঙ্গে শাসকদলের মন্ত্রীর গলায় ছিল কঠোর হুঁশিয়ারি। আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যদি আরজি করের ফাইল নতুন করে খোলা হতে পারে, তবে এই ধরনের ঘটনাতেও সবকিছু নতুন করে শুরু হতে পারে।” পুলিশের একাংশের ভূমিকা ও জামিন নিয়ে মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্তের প্রতি পুলিশের এই ‘নরম’ মনোভাব কি প্রশাসনিক গাফিলতিরই বহিঃপ্রকাশ? উত্তর খুঁজছে আমজনতা।