ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, সেই জেরেই কি খোয়াতে বসেছিলেন অগ্নিবীরের চাকরি? চাঞ্চল্যকর মোড় হাইকোর্টে

নিয়ম মেনে পুলিশের ছাড়পত্র নিয়েই অগ্নিবীর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন আকাশ সরকার। দিব্যি কাজও করছিলেন। কিন্তু মাস ছয়েক পরই বিপত্তি। পুনরায় পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে গিয়েই চাকরি হারানোর জোগাড় হয় এই যুবকের। কার্যত এক আইনি গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছিল তাঁর ভবিষ্যৎ। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে অবশেষে স্বস্তি পেলেন আকাশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?
আকাশ সরকার ও তাঁর বাবা ফারুক সরকারের নাম এসআইআর (SIR) বা সিটিজেনশিপ ডিটারমিনেশন প্রক্রিয়ায় আটকে যায়। এই প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে তাঁদের ভোটাধিকার এবং নাগরিকত্বের নথিপত্রে। ঘটনাটি আরও জটিল হয় যখন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বা পিসিসি (PCC)-এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। আকাশ গত বছরের নভেম্বরে পুলিশের ছাড়পত্র পেয়েছিলেন, কিন্তু তার বৈধতা ছিল মাত্র ছয় মাসের। নতুন করে আবেদনের পর বারবার ঘুরে আসতে হয় তাঁকে। প্রশাসনিক তরফ থেকে জানানো হয়, এসআইআর তালিকায় নাম না থাকায় তাঁর আবেদন গৃহীত হচ্ছে না।

হাইকোর্টে আইনি লড়াই
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—২০২৫-এর নভেম্বরে যে ব্যক্তি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেলেন, ২০২৬-এর জুনে তাঁর নাগরিকত্ব বা চারিত্রিক বৈধতা কেন প্রশ্নের মুখে পড়বে? এই টানাপোড়েনে দিশেহারা আকাশ কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। আদালতে তাঁর আইনজীবী সওয়াল করেন, এসআইআর কখনোই কোনো ব্যক্তির চূড়ান্ত নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। তাঁর যুক্তি ছিল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আসল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক মামলা আছে কি না তা যাচাই করা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মের বেড়াজালে আটকে আকাশকে হয়রানির শিকার হতে হয়।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পাণ্ডে জানান, এসআইআর থেকে নাম বাদ গেলে বিধি অনুযায়ী কমিশন বিষয়টি ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসে জানায়। তবে হাইকোর্টের শুনানির সময় কমিশন আশ্বস্ত করে যে, আদালতের নির্দেশ থাকলে এই আইনি জট দ্রুত মেটানো সম্ভব।

শেষ রক্ষা
কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক গত ১৭ জুন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, আকাশ ও তাঁর বাবার করা আবেদনের শুনানি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এই নির্দেশের পরেই ২৫ জুন ট্রাইবুনালে তাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসেবে নাম ফিরে আসায় আকাশ শেষ পর্যন্ত পুলিশ ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ হাতে পান। ফলে, অগ্নিবীর হিসেবে চাকরিতে বহাল থাকতে আর কোনো বাধা রইল না তাঁর।

এই ঘটনা আবারও আঙুল তুলে দেখাল যে, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নিয়মের কড়াকড়ি কীভাবে একজন তরুণ কর্মীর ক্যারিয়ারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। হাইকোর্টের এই রায় আপাতত আকাশ সরকারের জীবনে নতুন করে আশার আলো নিয়ে এল।