১১ কিমি সাইকেল চালিয়ে প্রেমিকার বাড়িতে হানা! গলার নলি কেটে খুনের ঘটনায় শোরগোল

পরকীয়া সম্পর্কের করুণ ও মর্মান্তিক পরিণতি দেখল পান্ডুয়া। প্রেমিকার মেয়ে বড় হয়ে যাওয়ায় তাদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল, এই সন্দেহের বশেই চরম সিদ্ধান্ত নিল প্রেমিক। ১১ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে প্রেমিকার শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে কাস্তে দিয়ে গলা কেটে খুন করল সে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বুধবার তোলপাড় পড়ে গিয়েছে এলাকায়। মৃতার নাম ওহিদা খাতুন (৩৪), যিনি পান্ডুয়ার দাঁপুড়ে এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওহিদা খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল গুড়াপ থানা এলাকার কুলবাড়ুই গ্রামের বাসিন্দা গোপাল ক্ষেত্রপাল নামে এক যুবকের। ওহিদার দুই মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ, মেয়েদের বয়স বাড়ার কারণে ইদানীং ওহিদার সঙ্গে গোপালের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সম্পর্কের অবনতির ফলে দূরত্ব বাড়ছিল, যা মেনে নিতে পারেনি অভিযুক্ত গোপাল। মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ মুখে গামছা বেঁধে গোপাল তার বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সরাসরি ওহিদার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজির হয়। এরপর বাথরুমের পাশে ওহিদা একা পেয়ে সে কাস্তে দিয়ে তাঁর গলা কেটে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।

ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় ওহিদা খাতুনকে পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। মৃতার দিদি ফরিদা বিবি পান্ডুয়া থানায় গোপাল ক্ষেত্রপালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানান যে, গোপালের সঙ্গে তাঁর বোনের সম্পর্কের কথা তাঁরা জানতেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। বুধবার রাত থেকেই গোপালের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, খুনের পর বৈঁচি স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল গোপাল। কিন্তু সেই ছক বানচাল করে দেয় পুলিশ। পান্ডুয়ার হরাল হাটতলা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়।

পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়েছে গোপাল। খুনের কথা স্বীকার করে সে জানিয়েছে, প্রেমিকার মেয়ে বড় হওয়ার কারণেই তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার গোপালকে চুঁচুড়া আদালতে তোলা হয়। পুলিশের ধারণা, ঘটনার পেছনে আরও কোনো প্ররোচনা বা পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক মহিলার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও তীব্র আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।