শতাধিক পদের জায়গায় ডাক্তার মাত্র ৪৭! মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে জীবন নিয়ে টানাটানি

দিনকে দিন বেড়েই চলেছে রোগীর চাপ। অথচ তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে চিকিৎসকদের লাগাতার বদলি। এই দুইয়ের জেরে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দূরদূরত্ব থেকে উন্নত চিকিৎসার আশা নিয়ে হাসপাতালে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে সমস্ত বিভাগ মিলিয়ে শতাধিক চিকিৎসকের থাকার কথা, সেখানে এই মুহূর্তে কর্মরত মাত্র ৪৭ জন চিকিৎসক। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও উপস্থিত নেই। এর ফলে প্রথমবার ডাক্তার দেখানোর পর পরবর্তী ফলো-আপ বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের দুই থেকে তিন মাস পরের তারিখ দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকের বড় আকাল বিভিন্ন বিভাগে
হাসপাতালের প্রশাসনিক হিসাব অনুযায়ী, নন-স্পেসিফিক ডাক্তার পদে ৩৯ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মাত্র ১৯ জন। একইভাবে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ৭ জনের জায়গায় রয়েছেন ৪ জন, জেনারেল মেডিসিনে ৯ জনের জায়গায় মাত্র ৪ জন এবং অর্থোপেডিক বিভাগে মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়াও পেডিয়াট্রিক ও এসএনসিইউ (SNCU) হাসপাতালেও চিকিৎসকের মারাত্মক অভাব রয়েছে। সাম্প্রতিককালে জুলাই ও অগস্ট মাসে এই হাসপাতাল থেকেই প্রায় ১২ জন চিকিৎসককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশাল জনগোষ্ঠীর নির্ভরতা এই হাসপাতালের ওপর
মালবাজার মহকুমা তো বটেই, পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং এবং দার্জিলিং জেলার একটি বড় অংশ চিকিৎসার জন্য এই মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। এমনকি পার্শ্ববর্তী ময়নাগুড়ি ব্লক এবং সিকিমের একাংশ থেকেও রোগীরা এখানে আসেন। হাসপাতালের মোট বেড সংখ্যা ৩৭০টি হলেও প্রতিদিন গড়ে ৫৪০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের অগস্ট পর্যন্ত শুধুমাত্র ওপিডিতেই ১ লক্ষ ৭৯ হাজার রোগী ডাক্তার দেখিয়েছেন, যেখানে প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় এক হাজার মানুষের ভিড় জমে।
চিকিৎসক কম থাকায় সকালবেলা হাসপাতালে এসে রোগীদের বাড়ি ফিরতে ফিরতে একেবারে সন্ধ্যা গড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, হাসপাতালের একমাত্র মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সম্প্রতি বদলি হয়ে যাওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে দিব্যাঙ্গ (শর্ত সাপেক্ষে বিশেষভাবে সক্ষম) শংসাপত্র প্রদানের কাজও সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যা প্রতিবন্ধী ও তাঁদের পরিবারকে আরও বিপাকে ফেলেছে।
হাসপাতালের সুপার চিকিৎসক সৌররঞ্জন বসু জানিয়েছেন যে বিষয়টি ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বিধায়ক তথা রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান শুক্রা মুণ্ডা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য দফতরে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত এই সংকট কেটে পর্যাপ্ত ডাক্তার যোগ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ওয়াকিবহাল মহল।