শাঁখ-ঘণ্টা বাজানোর স্বাধীনতা! শওকতের আতঙ্কের দিন শেষ, ক্যানিংয়ে পুজোয় রেকর্ড বৃদ্ধি!

একসময় যেখানে উৎসবের আনন্দের মধ্যেও কুরে কুরে খেত আতঙ্কের ছায়া, বর্তমানের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সেখানে যেন এক সম্পূর্ণ নতুন ছবি। ভয়ের দিনগুলি পেছনে ফেলে ক্যানিংয়ে এবার ফিরে এসেছে দুর্গাপুজোর আসল আমেজ। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার রাজনৈতিক প্রভাবকে ঘিরে স্থানীয়দের মনে যে ভীতি কাজ করত, পরিবর্তনের হাওয়ায় সেই মেঘ কেটে গিয়ে এখন আত্মবিশ্বাসী এলাকার মানুষ। আর এই মুক্ত আবহেই ক্যানিংয়ে এবার আরও বড় পরিসরে দুর্গাবোধনের প্রস্তুতি চলছে।

গত বছরের তুলনায় বাড়ল পুজোর সংখ্যা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার জীবনতলা থানা এলাকায় গত বছর দুর্গাপুজোর সংখ্যা ছিল ১১৮টি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে নানা বিধিনিষেধ ও চাপের কারণে বেশ কিছু পুজো বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এমনকি মাইক বাজানো, শাঁখ-ঘণ্টা বা অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রেও একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চলতি বছরে সেই ছবিটা একশো আশি ডিগ্রি বদলে গিয়েছে। এ বছর ওই অঞ্চলে পুজোর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩৬টি—অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় একলাফে ১৮টি পুজো বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একাধিক পুজোও এবার নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে।

ভয় কাটিয়ে ফিরে পাওয়ার আনন্দ এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অতীতে পুজোর দিনগুলিতে সবসময় একটা অজানা আতঙ্ক কাজ করত—কখন কোন বিষয়ে আপত্তি উঠবে বা নিয়ম মানার কোপ পড়বে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকত। নবমীর দিনেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া কিংবা আজানের সময় মাইক বন্ধ রাখার মতো শর্তের বেড়াজালে উৎসবের আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে সেই ভীতি কাটিয়ে মানুষ অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবেশেও বড়সড় পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে আজ তাঁরা সম্পূর্ণ ভয়হীনভাবে নিজেদের মতো করে পুজো করার অধিকার ফিরে পেয়েছেন।

অতীতের ছায়া ও নতুন সকাল প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা বর্তমানে জেলবন্দি। তাঁকে ঘিরে অতীতে যে রাজনৈতিক আধিপত্য ও পুজোয় বাধানিষেধের অভিযোগ উঠত, বর্তমানের মুক্ত পরিবেশের সঙ্গে তার জোরালো তুলনা টানছেন স্থানীয়রা। সংখ্যার হিসেবে মাত্র ১৮টি পুজো বাড়লেও, সাধারণ মানুষের কাছে এর তাৎপর্য অনেক বেশি। তাঁদের চোখে এটি কেবল কিছু নতুন মণ্ডপ তৈরি নয়, বরং দীর্ঘদিন পর নিজেদের সংস্কৃতি ও উৎসবের অধিকার ফিরে পাওয়ার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।