পুরীর ঝাউবনে গণধর্ষণ! বিজেপি শাসিত ওড়িশায় নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন, গ্রেফতার ৩

বিজেপিশাসিত ওড়িশায় নারী নির্যাতনের ঘটনা যেন থামছেই না। এবার পুরীর এক নির্জন ঝাউবনে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবারের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরীর ব্রহ্মগিরি থানার অন্তর্গত বালিহার চণ্ডী মন্দিরের কাছে এক যুবক ও যুবতী একান্তে সময় কাটাচ্ছিলেন। সে সময় একদল যুবক তাদের ছবি ও ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে এবং টাকা দাবি করে। পুলিশের সুপার প্রতীক সিং জানান, “টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই দলটি ওই তরুণীকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার বন্ধুকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে।”

জানা গেছে, এরপর তরুণীকে সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি ঝাউবনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর ওই তরুণী মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত ছিলেন যে, একজন মহিলা পুলিশ আধিকারিক তার সঙ্গে কথা বলে তাকে শান্ত করেন। এরপর সোমবার ব্রহ্মগিরি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। আরও কয়েকজন এই ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

এই ঘটনায় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজু জনতা দলের (বিজেডি) নেতা নবীন পট্টনায়েক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই ওড়িশায় নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।” অন্যদিকে, স্থানীয় প্রাক্তন বিধায়ক সঞ্জয় দাস বর্মাও এই ঘটনায় বিজেপি সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছর ওড়িশায় বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকেই রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ। এই গণধর্ষণের ঘটনাটি আবারও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।