অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে উত্তাল রাজনীতি, খোদ বিজেপির গড় অসমে আটক ১১ রোহিঙ্গা!

সারা দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের ইস্যু নিয়ে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিজেপি শাসিত রাজ্য অসমে ১১ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসামের একটি জনসভায় নাম না করে পশ্চিমবঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন যে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে দেশের জনবিন্যাস দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই আসামে এই ঘটনা কেন্দ্রীয় সরকারের দাবিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তারাপুর রেলওয়ে স্টেশনে হায়দ্রাবাদ থেকে আসা ১১ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বজরং দলের সদস্যরা তাদের সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। দ্রুত পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা প্রত্যেকেই মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্য। তাদের কাছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (UNHCR) কার্ডও পাওয়া গেছে, যা তাদের শরণার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে এই কার্ড থাকা সত্ত্বেও ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পুলিশ সূত্রে খবর, এই রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে লুকিয়ে থেকে কাজ করছিল এবং সম্প্রতি হায়দ্রাবাদ থেকে আসামে ফিরছিল।
এই গ্রেফতারের ঘটনা আসামের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি সরকারের সমর্থকরা এটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ নীতির সাফল্য হিসেবে দেখলেও, বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, “আমাদের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই গ্রেফতার প্রমাণ করে যে আমরা এ বিষয়ে কতটা সতর্ক ও সক্রিয়।”
তবে এই ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর ঘটেছে, যা অনেককেই বিস্মিত করেছে। দেশজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ইস্যুটি বারবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক হিংসার শিকার হয়ে ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গারা ভারতে আশ্রয় নিতে শুরু করে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৪০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে, যাদের অনেকেই অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। আসামের মতো স্পর্শকাতর রাজ্যে এদের উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে এবং ১৯৮০-এর দশকের অসম আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।