পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে মহাপ্রসাদ তৈরি নিয়ে সংকট, কাঠের অভাবে বন্ধ হতে পারে প্রসাদ বিতরণ

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে মহাপ্রসাদ তৈরি নিয়ে বড়সড় সংকট দেখা দিয়েছে। প্রসাদ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঠের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদ তৈরি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

কাঠের অভাবে বিপাকে মন্দির কর্তৃপক্ষ
সাধারণত প্রতিদিন জগন্নাথ মন্দিরে ৩০ থেকে ৪০ হাজার ভক্তের জন্য মহাপ্রসাদ তৈরি হয়, যার জন্য ১২০ কুইন্টাল কাঠের প্রয়োজন হয়। উৎসবের দিনগুলোতে এই চাহিদা ১৫০ কুইন্টাল পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু বনবিভাগ বর্তমানে মাত্র ৩৫ কুইন্টাল কাঠ সরবরাহ করছে। ফলে মন্দির কর্তৃপক্ষকে বাইরে থেকে চড়া দামে কাঠ কিনতে হচ্ছে, যা প্রায়শই পর্যাপ্ত হয় না।

মন্দিরের ‘মহাসুয়ার’ প্রধান নারায়ণ মহাসুয়ার বলেন, “বনবিভাগ আমাদের মাত্র ৩৫ কুইন্টাল কাঠ সরবরাহ করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে কার্তিক মাসে আমরা ভক্তদের চাহিদা অনুযায়ী মহাপ্রসাদ তৈরি করতে পারব না।” তিনি আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু এক বছর পরেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ভক্ত ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে কার্তিক মাস এবং পিতৃপক্ষ শুরু হতে চলেছে, যখন মন্দিরে ভক্তদের ভিড় অনেক বেড়ে যাবে। মহাপ্রসাদের চাহিদা তখন আরও বাড়বে। এই অবস্থায় কাঠের সমস্যা সমাধান করা খুবই জরুরি।

মন্দির উন্নয়ন প্রশাসক দেবব্রত সাহু জানিয়েছেন, তারা বনবিভাগকে চিঠি দেবেন এবং কীভাবে কাঠ সরবরাহ বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করবেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে যাতে কাঠের কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে আপাতত, কাঠের অভাবের কারণে ভক্তদের মহাপ্রসাদ পেতে সমস্যা হচ্ছে, এবং যদি এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে ঐতিহ্যবাহী মহাপ্রসাদ তৈরির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।