দুর্গাপুজোর মুখেও চরম কষ্টে শোলা শিল্পীরা, দাম বাড়লেও মিলছে না মজুরি

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার আগে যখন চারিদিকে সাজসাজ রব, তখন চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শোলা শিল্পীরা। জলাশয় পরিষ্কার করে মাছ চাষের কারণে শোলা চাষের জমি কমে গেছে। ফলে পর্যাপ্ত শোলা না পাওয়ায়, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা এখন গভীর সংকটে।
কাঁচামালের দাম বাড়লেও কাজের মজুরি একই
শোলা শিল্পীরা জানান, বিগত কয়েক বছর আগে যে পরিমাণ শোলা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু তাদের হাতের কাজের মূল্য সেভাবে বাড়েনি। ফলে লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্মূল্যের বাজারে অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়লেও তাদের তৈরি জিনিসের দাম খুব একটা বাড়েনি।
চাহিদা থাকলেও জোগানের অভাব
দুর্গাপূজার সময় দেব-দেবীর শোলার তৈরি অলঙ্কার ও কদম ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাজারে সেভাবে শোলা পাওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত পরিমাণে শোলা না থাকায় ভিন জেলা বা রাজ্য থেকে তা আমদানি করতে হচ্ছে, যার খরচ আরও বেশি। এর ফলে শোলা শিল্পীরা উৎসবের এই মরসুমেও চোখে কষ্ট নিয়ে দিন গুনছেন। তাদের এই দুর্দশার কারণে নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
যদি এই শিল্পের প্রতি সঠিক নজর দেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি হয়তো বিলুপ্তির পথে চলে যাবে।