চন্দনের টিপ মুছে দেওয়া নিয়ে তুলকালাম! নাম না করে কোন নামী স্কুলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী?

শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতির চর্চা এবং মূল্যবোধের প্রসারের ওপর এবার সবথেকে বেশি জোর দেওয়ার কথা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার কলকাতার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও ভাবনার ওপর ভিত্তি করে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। এদিনের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠে বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ এমন এক আধুনিক শিক্ষার কথা বলেছিলেন, যে শিক্ষা মানুষের প্রকৃত চরিত্র গঠন করে, মনের ভেতরের শক্তি ও বল বৃদ্ধি করে এবং মানুষকে সম্পূর্ণভাবে স্বনির্ভর করে তোলে।” আর ঠিক এই প্রসঙ্গেই বর্তমান সমাজের অবক্ষয় রোধে দেশপ্রেম ও নিজস্ব ঐতিহ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এদিনের জনাকীর্ণ মঞ্চ থেকেই সাম্প্রতিককালের একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও ভাইরাল ভিডিয়োর প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কলকাতার একটি নামী স্কুলের সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্দরে ঠিক কী ধরনের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। এক ছাত্র সাহসের সঙ্গে অভিযোগ করেছে যে, স্কুল চত্বরে তার কপালে থাকা পবিত্র চন্দনের টিপ জোর করে মুছিয়ে দিচ্ছেন খোদ শিক্ষক। তাঁকে ধমক দিয়ে বলা হচ্ছে, মুখ ধুয়ে ক্লাসে এসো, কপালে কোনো রকম টিপ নিয়ে ক্লাসে আসা চলবে না। আজ এ ধরনের সংকীর্ণ মাইন্ডসেট তৈরি হচ্ছে! কে কপালে চন্দনের টিপ রাখবে, কে গলায় পবিত্র তুলসীমালা পরবে—এগুলি তো কোনো অপরাধ নয়, এগুলি আমাদের হাজার বছরের প্রাচীন পরম্পরা ও শাশ্বত ঐতিহ্য।”
শিক্ষাব্যবস্থাকে নিজের শেকড়ের দিকে ফিরিয়ে আনার ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, “আমি চাই আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে অন্তত ১০০০টি বিদ্যা ভারতী স্কুল গড়ে উঠুক। পাশাপাশি সমাজের কল্যাণে গোশালা নির্মাণ করুন, ঘরে ঘরে পবিত্র গীতা বিতরণ করুন এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সুপ্রাচীন পরম্পরা সর্বতোভাবে বজায় রাখুন।” রামকৃষ্ণ মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো বিশ্বখ্যাত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলি দ্বারা পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জনহিতকর কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
পাশাপাশি, পূর্বতন সরকারের আমলের স্কুল পাঠ্যক্রম বা সিলেবাস নিয়েও এদিন তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, বিগত দিনে দীর্ঘ পরিকল্পনা করে পাঠ্যক্রমের সিলেবাস থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয় বিকৃত করা হয়েছে, যা আগামী প্রজন্মের চিন্তাভাবনাকে বিভ্রান্ত করেছে। শিক্ষার নামে এই সাংস্কৃতিক বিকৃতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।