পুজো মিটতেই ২০২৬-এর ‘ব্লুপ্রিন্ট’! বাংলায় এলেন ভূপেন্দ্র যাদব-বিপ্লব দেব, কী হবে আজকের সল্টলেকের বৈঠকে?

দুর্গাপূজা শেষ হতে না হতেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রস্তুতি শুরু করে দিল বঙ্গ বিজেপি। এই প্রস্তুতি পর্বের নির্বাচনী ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে কলকাতায় এলেন বঙ্গ বিজেপির নির্বাচন কমিটির পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব এবং সহ-পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেব। সল্টলেকে রাজ্যের শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত থাকবেন।
গত মাসেই ভূপেন্দ্র যাদবদের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বে আনা হয়েছে। পুজো মিটতেই তাই নির্বাচনী রণকৌশল চূড়ান্ত করতে উদ্যোগী তাঁরা।
নেতৃত্বের বক্তব্য: ‘ভোটের দামামা বেজে গেছে’
বিজেপি নেতৃত্বের কথায় স্পষ্ট, ২০২৬-এর নির্বাচনই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য:
লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ইতিমধ্যে ভোটের দামামা বেজে গেছে। বাংলার মানুষ জানেন… দুর্নীতি, মহিলাদের উপর অত্যাচার, যেভাবে একদিনের বৃষ্টিতে কলকাতায় ৮ জন মানুষ মারা গেল, কী অবস্থা! ঘরে ঘরে গেলেই আজ এই সরকার সম্বন্ধে বিতশ্রদ্ধ এটাই বলছেন। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা লড়ব।”
ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন বলেন, “সামনে নির্বাচন। সেই নির্বাচনের জন্য যে রুটম্যাপ, সেটা নিয়ে আজকের বৈঠক। সমস্ত কিছুই এখানে আলোচনা হতে পারে। ২০২৬-কে কেন্দ্র করেই হচ্ছে। এবার আমাদের দলের কার্যক্রম শুরু হবে।”
‘তৃণমূলের জন্ম দিয়েছি’ মন্তব্যে বিতর্ক:
এই আবহের মধ্যেই দিন কয়েক আগে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের জন্ম দিয়েছি।” সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “কংগ্রেসের প্রবল গর্ভযন্ত্রণার সময় লেবার রুমে অটলবিহারি বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আডবানী না থাকলে, তৃণমূল নামক শিশুটির জন্ম হতো না।”
শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “এসব কথার জাগলারি। তৃণমূল তৃণমূলের মতোই আছে। সারা বাংলা জুড়ে আছে। শুধু বিজেপি বাংলায় দুর্বল, নেই। আবার হারবে। নিজেদের হতাশা, ব্যর্থতা কথার জাগলারি দিয়ে ঘুরিয়ে লাভ নেই। সিপিএম-এর ভোট বিজেপি-তে যুক্ত হয়েছে।”