পুজোর মুখে বিজেপির বড় চাল! গুজরাট, বারাণসী-সহ একাধিক শহরে যাচ্ছেন বিজেপি নেতারা, কেন?

যে ‘বাঙালি হেনস্থা’ ও ‘বাংলা ভাষার অপমান’-এর অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস বারবার বিজেপিকে বিঁধছে, এবার সেই একই ইস্যুতেই পাল্টা কৌশল নিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের শাসক দলকে চাপে ফেলতে এবার প্রবাসী বাঙালিদের কাজে লাগাতে চাইছে তারা।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা ভিনরাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সেখানকার বাঙালি পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা শুরু করেছেন। এই কর্মসূচিতে বিশেষ নজর কাড়ছে দুই হেভিওয়েট নেতা: বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাতে, আর প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে।

কেন এই উদ্যোগ?
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ভিনরাজ্যের বাঙালিদের সঙ্গে এই জনসংযোগ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। এই পুরো বিষয়টির দেখভাল করছেন দুই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দুষ্যন্তকুমার গৌতম এবং তরুণ চুঘ। তাঁরা প্রতিটি রাজ্যে স্থানীয় নেতাদের একটি দল গঠন করে দিয়েছেন, যারা বাংলার বিজেপি নেতাদের সঙ্গে পুজো কমিটিগুলির যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছেন।

রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিংহ যদিও এই কর্মসূচির সঙ্গে ‘বাঙালি হেনস্থা’ সংক্রান্ত অভিযোগের সম্পর্ক মানতে নারাজ। তিনি বলেন, “কোথাও কোনো বাঙালি হেনস্থা নেই। তৃণমূলের সাজানো গল্প কেউ বিশ্বাস করে না।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এই কর্মসূচির সঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সরাসরি সম্পর্ক আছে। তাঁর মতে, ভিনরাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিদের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতেরা এ রাজ্যে থাকেন। তাঁদের কাছে অন্যান্য রাজ্যের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বোঝানো হবে কেন এই রাজ্য থেকে তৃণমূলকে সরানো প্রয়োজন।

মুম্বই, পুণে, দিল্লি, লখনউ, রাঁচি, চেন্নাই-সহ একাধিক শহরের পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে বাংলার বিজেপি নেতারা পুজোর আগেই বৈঠক করবেন। এমনকি চণ্ডীগড় এবং আন্দামান নিকোবরের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও এই কর্মসূচি চলবে।