পুজোর মুখেও হাসি নেই রামজীবনপুরের তাঁতশিল্পীদের মুখে, চরম সংকটে ঐতিহ্যবাহী শিল্প

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনার রামজীবনপুর একসময় তার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই শিল্প চরম সংকটে। পুজোর মুখেও তাঁতের শাড়ির অর্ডার কম থাকায় এবং হ্যান্ডলুম মেশিনের কারণে সুতির শাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় তাঁতশিল্পীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। মহাজনরা কম মজুরি দেওয়ায় সংসার চালাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আগে রামজীবনপুর পুরসভার প্রায় সব ওয়ার্ডেই ঘরে ঘরে হাতে তৈরি তাঁতের মেশিনের রমরমা ছিল। কিন্তু এখন হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চিরাচরিত সুতির তাঁতের শাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় রেশম ও সিল্কের শাড়ির কদর বেড়েছে। এর ফলে সুতোর জোগান কমে গেছে, যা শিল্পটিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

তাঁত শিল্পে উপার্জন কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্ম আর এই পেশায় আসতে চাইছে না। তাই অনেকেই কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখানকার শিল্পীরা মনে করেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের সাহায্য অত্যন্ত জরুরি।

রামজীবনপুর পুরসভার পুরপ্রধান এই শিল্পের করুণ দশার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, তারা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সরকারকে এই বিষয়ে অবগত করেছেন। তবে এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে এই শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব হয় কি না।