পুজোর আগে শেষ সাংগঠনিক বৈঠক, বিজেপিকে রুখতে কী কৌশল নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

সামনেই দুর্গাপূজা, আর তার ঠিক আগে শেষ জেলা সাংগঠনিক বৈঠক সারলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বসিরহাট, যাদবপুর এবং ডায়মন্ড হারবার – এই তিনটি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল আসন্ন উৎসবের মরসুমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অভিষেকের ৩ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
১. ভোটার ও পরিযায়ী শ্রমিক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতাদের ‘SIR’ (Systematic Improvement of Records) নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন, যাতে একজনও বৈধ ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। একইসঙ্গে তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি তালিকা তৈরি করে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো সমস্যায় পড়লে তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
২. বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার: অভিষেক বলেছেন, বাড়িতে বসে না থেকে পুজোর আগে ও পরে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে প্রচার করতে হবে। তিনি বিজেপির বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার কথা বলেছেন। দলের নেতাদের প্রতি নির্দেশ, সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্প্রীতি বজায় রাখতে কঠোর নজর রাখতে হবে। কোনো বিভেদকামী শক্তি যাতে উৎসবের সময় শান্তি নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।
৩. নির্বাচনের প্রস্তুতি: বসিরহাটের নেতাদের উদ্দেশ্যে অভিষেক বলেছেন, তাদের এলাকায় সাংসদ নেই এবং নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট পিছিয়ে দিচ্ছে। তাই লোকসভা উপনির্বাচন এবং বিধানসভা ভোটের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অভিষেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচন একটি যুদ্ধ, এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কোনো জায়গা নেই। তিনি আরও বলেন, পুজোর সময়ে বড় সভার প্রয়োজন নেই, বরং ছোট ছোট পাড়া বৈঠকের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বার্তায় আরও বলেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস ৩৬৫ দিনই মানুষের পাশে থাকে, এবং পুজোর সময়েও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। তিনি দলীয় নেতাদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন না রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।