পুজোর আগে পর্যটকদের জন্য সুখবর, অবশেষে খুলে গেল উত্তর সিকিম, এবার আরও বড় চমক

পুজোর মরসুমের আগে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য দারুণ খবর! তিন মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে গেল উত্তর সিকিম। এর ফলে পর্যটকরা আবার লাচুং, ইয়ুমথাং ভ্যালি এবং জিরো পয়েন্টের মতো জনপ্রিয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সিদ্ধান্তে পর্যটন ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে ঘন ঘন ধস এবং রাস্তা খারাপ থাকার কারণে NH-10 ও ২৯ মাইল এলাকা দিয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এর ফলে সিকিমে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল হোটেল ব্যবসায়ী, দোকানদার এবং গাড়িচালকদের ওপর। এখন উত্তর সিকিমের দরজা খুলে যাওয়ায় তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

ভ্রমণ বিধি-নিষেধে নতুন নিয়ম

উত্তর সিকিম ভ্রমণে কিছু নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। গ্যাংটক থেকে যাত্রার ক্ষেত্রে বেলা ১টার মধ্যে সাংকালাং সেতু পার হওয়া বাধ্যতামূলক। লাচুং থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের দুপুর ২টার মধ্যে টুং ব্রিজ অতিক্রম করতে হবে। এতদিন এক রাত-দু’দিনের প্যাকেজ থাকলেও এখন থেকে পারমিট পেতে হলে অন্তত দুই রাত-তিন দিনের প্যাকেজ বুক করতে হবে।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, এই নতুন নিয়ম ব্যবসার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, “দুই রাত-তিন দিনের নিয়ম বাস্তবসম্মত। এতে পর্যটকরা ভালো অভিজ্ঞতা পাবেন এবং ব্যবসারও উন্নতি হবে।”

এবার ডোকালামে ‘রণভূমি পর্যটন’

এরই মধ্যে আরেকটি বড় খবর সামনে এসেছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসের দিন পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ডোকালাম সীমান্ত। এই জায়গাটিকে ‘রণভূমি পর্যটন’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি বিশেষ দল প্রাথমিক সমীক্ষা করেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ডোকালাম পর্যটন চালু হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা আরও বাড়বে।

পর্যটন ব্যবসায়ী দেবাশীষ চক্রবর্তীর মতে, “লাচুং-ইয়ুমথাংয়ের মতো জনপ্রিয় জায়গার সঙ্গে যদি ডোকালামও খুলে যায়, তাহলে উত্তর সিকিম একটি নতুন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।”

উত্তর সিকিম এবং ডোকালাম একসঙ্গে খুলে গেলে সিকিমের পর্যটন ব্যবসায় একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। পুজোর মরসুমে এই সিদ্ধান্ত সিকিমকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণকেন্দ্র করে তুলতে সক্ষম বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহল।