পুজোর আগেই কি ঘোষিত হবে রাজ্য কমিটি? বঙ্গ বিজেপিতে শুরু নতুন খেলা, সামনে এল সম্ভাব্য নামের তালিকা!

গত ৩ জুলাই শমীক ভট্টাচার্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হলেও, প্রায় তিন মাস কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত রাজ্য কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে বিজেপি সূত্রে খবর, কমিটি চূড়ান্ত না হলেও একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা পুজোর পর ঘোষণা করা হতে পারে।

এই বিলম্বের কারণ হিসেবে দলের একাধিক বিষয় উঠে এসেছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। এর আগে রাজ্য কমিটি গঠন না হওয়া রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

কাদের নিয়ে তৈরি হবে নতুন কমিটি?
সম্প্রতি নিউটাউনে বিজেপির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএল সন্তোষ, শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, অমিত মালব্য, অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকেই। বিজেপি সূত্রে খবর, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর বড় প্রভাব থাকবে।

রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এবার কমিটি তৈরি হবে আদি ও নব্য – উভয় পক্ষের কর্মীদের নিয়ে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ, জেলা কমিটিতে ৭০ শতাংশ আসন আরএসএস ঘনিষ্ঠ বা আদি কর্মীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

কেন এই সতর্কতা?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্য দল থেকে আসা কর্মীদের উপর বেশি ভরসা করে বিজেপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ভুল এবার আর পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে না বিজেপি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন জেতার পর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা কমে ১২-তে নেমে আসে। এই ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রথম থেকেই কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতোমধ্যে তিনবার সমীক্ষা দল পাঠিয়ে বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে, যাতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা যায়।

সম্ভাব্য পদপ্রার্থীদের তালিকা:

সাধারণ সম্পাদক: জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, প্রবাল রাহা, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।

মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী: শশী অগ্নিহোত্রী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।

যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি: সুরঞ্জন সরকার, তরুণজ্যোতি তেওয়ারি।