পুজোয় মহাদুর্যোগের আশঙ্কা! একটির পর একটি, রাজ্যকে ধাক্কা দিতে আসছে আরও ২ নিম্নচাপ

মহালয়ার পর থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনজীবন বিপর্যস্ত। রেকর্ড বৃষ্টিতে কার্যত বানভাসি কলকাতা, তৃতীয়াতেও শহরের বহু এলাকা জলমগ্ন। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন দুর্গাপুজোর আবহাওয়া নিয়ে বড় পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

শুরুতে যদিও কিছুটা আশার খবর শুনিয়েছে হাওয়া অফিস। যে নিম্নচাপের জেরে কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে, সেটি আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে বুধবার রাত থেকেই বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খবরে পুজো উদ্যোক্তা ও প্রশাসন কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

চতুর্থী থেকেই আবার মেঘ, বৃষ্টি ষষ্ঠী পর্যন্ত!
তবে আশঙ্কার মেঘ এখনই কাটছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, প্রথম নিম্নচাপটি দুর্বল হলেও তার পিছু পিছু আরও দুটি নিম্নচাপ রাজ্যকে ধাক্কা দিতে পারে। যার প্রথমটি প্রভাব ফেলতে শুরু করবে ২৬ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ চতুর্থীর দিন থেকে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান হবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন:

প্রথম নিম্নচাপ: “যে নিম্নচাপটি ছিল, তা এখন উত্তর ওড়িশাতে অবস্থান করছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দুর্বল হয়ে যাবে।”

দ্বিতীয় নিম্নচাপের প্রভাব: “আর একটি ঘূর্ণাবর্ত উত্তর মায়ানমার সংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরের কাছে তৈরি হয়েছে। এটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল, ২৫ সেপ্টেম্বরই নিম্নচাপে পরিণত হবে। ২৬ তারিখ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

এই দ্বিতীয় নিম্নচাপের প্রভাবে ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর (চতুর্থী থেকে ষষ্ঠী) পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে।

উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ২৭ সেপ্টেম্বর এটি দক্ষিণ ওড়িশা ও সংলগ্ন অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করবে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে:

ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা: ২৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় এক-দু’জায়গায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

কলকাতায় স্বস্তি: বাকি জেলাগুলোতে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকলেও, কলকাতায় ভারী বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকবে।

দুর্যোগের শেষ নয়, তৃতীয় নিম্নচাপের চোখ রাঙানি
কিন্তু এখানেই দুর্যোগের শেষ নয়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের আশেপাশে তৃতীয় আর একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। যদিও সেই বিষয়ে চূড়ান্ত পূর্বাভাস দেওয়ার আগে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে চাইছেন আবহাওয়াবিদরা।

অর্থাৎ, পুজোর প্রথম কয়েকটা দিন বৃষ্টি কমলেও, চতুর্থী থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে ভেস্তে যেতে পারে ঠাকুর দেখা। আর সপ্তমী-অষ্টমীর আশেপাশে তৃতীয় নিম্নচাপ তৈরি হলে তা আরও বড় দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।