“এক দিন দেরি হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না!” তৃণমূলের আর্জি খারিজ করে শুনানিতে স্থগিতাদেশ বিচারপতির

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির উপস্থিতির যুক্তি দেখিয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতি সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার। বিচারপতির স্পষ্ট বার্তা, “এক দিন দেরি হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না।” সলিসিটর জেনারেলের আবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত।

আদালতে কী নিয়ে বিতর্ক?
গত মঙ্গলবারের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই মামলা দায়েরের সময়কাল নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিচারপতি স্পষ্টতই বিস্মিত যে, ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পরই কেন পুলিশ এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এতটা তড়িঘড়ি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিল? গত শুনানিতে বিচারপতি বলেছিলেন, “অভিযোগ দায়েরের সময়টি আদালতকে ভাবাচ্ছে। অভিযোগের আগে ওই অ্যাকাউন্ট নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ছিল না। তাহলে পুলিশ কিসের ভিত্তিতে এত দ্রুত ফ্রিজ করার মতো চরম পদক্ষেপ নিল?” এই প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে কি না, তা নিয়ে কার্যত ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু:
তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি গত শুনানিতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, “পুলিশ কি একটি রাজনৈতিক দলকে এভাবেই তাদের লাইফলাইন বন্ধ করে পঙ্গু করতে পারে?” কোনো রাজনৈতিক দলের আর্থিক লেনদেন এভাবে আচমকা স্তব্ধ করে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েই তিনি আদালতে প্রশ্ন তোলেন। শাসকদলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করা হয়েছে।

ব্যাঙ্কের ভূমিকা ও আদালতের নির্দেশ:
এই পুরো ঘটনার জল অনেক দূর গড়িয়েছে। আদালত ইতিমধ্যেই শরৎ বোস রোডের ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের হলফনামা তলব করেছে। কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়ার আগে আদালত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও বিস্তারিতভাবে শুনতে চায়। মঙ্গলবার আদালতে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করার কথা ছিল, যা এখন বৃহস্পতিবার পেশ করা হবে।

এখন দেখার বিষয়, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কী হলফনামা জমা দেয় এবং আদালত তৃণমূলের এই ‘লাইফলাইন’ সচল করার বিষয়ে কী চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা কেবল আর্থিক সংক্রান্ত নয়, বরং এর সঙ্গে শাসকদলের সাংগঠনিক অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। হাই কোর্টের এই কড়া পর্যবেক্ষণ এবং শুনানির বিলম্ব তৃণমূল শিবিরের জন্য আপাতত বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।