‘পিছনের দরজা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এবার জমি হারাচ্ছেন মমতা!’ খড়্গপুরের চা-চক্রে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ।

মঙ্গলবার সাতসকালে খড়্গপুরের চায়ের আড্ডায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটালেন প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের দুর্নীতি কাণ্ড, মেটিয়াব্রুজের গণধর্ষণ মামলা এবং রাহুল গান্ধীর ‘শীতঘুম’—প্রায় প্রতিটি জ্বলন্ত ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করেছেন তিনি। খড়্গপুরের এই অনাবিল চা-চক্রের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এখন গোটা রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
মমতার দিল্লি সফর নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আমিও গতবারে পিছনের দরজা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলাম। এ বার পার্টি পুরো হেরে গিয়েছে। এখানের জমি পুরো শেষ, তাই নিজের জমি উদ্ধার করতেই তিনি দিল্লি গিয়েছেন।’’ রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসকদলকে চাপে রাখতেই এই চড়া সুর বেছে নিয়েছেন দিলীপ। এর পাশাপাশি, দুর্গাপুজোর ফুটবল খেলা এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে আভেরী সেনকে লালবাজারের তলব প্রসঙ্গে দিলীপ স্পষ্ট দাবি করেন, নেতাদের পরিবার এতদিন ধরে সবরকম সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এসেছে। এখন তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত তথ্য ধীরে ধীরে সামনে আসবে।
মেটিয়াব্রুজের গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং এলাকার প্রভাবশালী ‘বেতাজ বাদশা’-দের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে দিলীপের দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি, পুলিশ আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং বাংলায় কোনো অপরাধীই প্রভাব খাটিয়ে পার পাবে না। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সুরেই রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, দেশবিদেশে কোথায় থাকেন তার কোনো ঠিক ঠিকানা থাকে না, মাঝেমধ্যেই শীতঘুমে চলে যান রাহুল এবং হঠাৎ জেগে উঠে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সল্টলেকে রাহুলের ঘুমন্ত ছবি দিয়ে পোস্টার পড়ার ঘটনাতেও এই একই কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পূর্ববর্তী ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে দিলীপ দাবি করেন, দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে ফুটবল—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের কড়া শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। খড়্গপুর পুরসভায় ভোট পরিচালনা ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে চলা জল্পনাও এদিন সকালেই এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন পোড়খাওয়া এই বিজেপি নেতা।