বরখাস্ত করলেই কি দায়িত্ব শেষ? আইনজীবীদের নিরাপত্তা ও পুলিশি ঔদ্ধত্য নিয়ে প্রশ্নের মুখে দিল্লি হাইকোর্টের শুনানি

দিল্লি পুলিশ বনাম আইনজীবী দ্বন্দ্ব এখন গড়াল দেশের উচ্চ বিচারালয়ে। খাকি পোশাকের ক্ষমতা প্রদর্শন, আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বেফাঁস মন্তব্য এবং পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানির জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সামব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ সম্মতি জানিয়েছে। আইনজীবী করণ বীর সিং এই পিটিশনটি দাখিল করেছেন, যেখানে কর্মরত পুলিশ আধিকারিকদের বেপরোয়া আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠ এবং সাব-ইন্সপেক্টর বিশাল যাদবের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর সব অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে এসিপি বশিষ্ঠকে আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ভিডিওতে বলা হয়েছে যে আইনজীবীরা দলবদ্ধভাবে থানায় প্রবেশ করলে তাঁদের গ্রেপ্তার ও কড়া আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে। এখানেই শেষ নয়, এসআই বিশাল যাদবের একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে যে, কোনো আইনজীবী গায়ে হাত তুললে তাঁর ওপর একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করা হবে—যা পুলিশি শৃঙ্খলার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। আবেদনকারীর মতে, এই ধরনের মন্তব্য শুধু ক্ষমতার চরম অপব্যবহারই নয়, বরং আইনজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি এক বিরাট আঘাত। এছাড়াও সাম্প্রতিককালে কিছু পুলিশকর্মীর বিক্ষোভে যোগদানের বিষয়টি নিয়েও পিটিশনে জোরালো প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ১৯৬৬ সালের পুলিশ ফোর্সেস (রেস্ট্রিকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট এবং অন্যান্য সার্ভিস রুল অমান্য করে পুলিশকর্মীরা কীভাবে এই ধরনের কার্যকলাপে অংশ নিলেন, তা খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীর স্পষ্ট যুক্তি, কেবল একটি বিভাগীয় সাসপেনশন বা বদলির মাধ্যমেই এই গভীর সংকটের সমাধান হতে পারে না। আইনজীবীদের সম্মান রক্ষা এবং তাঁদের পেশাগত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে।এই মামলায় ভারত সরকার, দিল্লি পুলিশ কমিশনার, স্পেশাল পুলিশ কমিশনার (ভিজিল্যান্স), অভিযুক্ত এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠ এবং সাব-ইন্সপেক্টর বিশাল যাদবকে জবাবদিহি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিটিশনে মূল ইলেকট্রনিক প্রমাণাদি নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সমস্ত বেআইনি হুমকির ভিডিও অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও সময়বদ্ধ তদন্তের পাশাপাশি উপযুক্ত ফৌজদারি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে। খাকি বনাম কালো কোটের এই স্নায়ুর লড়াইয়ে হাইকোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।