মধ্যপ্রদেশে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হরদীপ সিং পুরীর! রাজ্যসভায় যাওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা

মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর জয় এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা মাত্র। মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনির শেষ দিনে দুই নির্দল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ায় ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে তাঁর প্রবেশ নিশ্চিত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উপনির্বাচনে কেন্দ্রের শাসক দলের অবস্থান আরও বেশি শক্তিশালী হতে চলেছে।
মনোনয়ন পরীক্ষার নির্ধারিত দিনে কান্তে সায়ান্না এবং কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী রাজকুমার লোহানির মনোনয়ন পত্রে নানাবিধ ত্রুটি থাকার কারণে তা খারিজ করে দেন নির্বাচন আধিকারিকরা। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরীর জমা দেওয়া ২৬ নম্বর ফর্ম এবং হলফনামাকে ‘অসম্পূর্ণ ও অবৈধ’ আখা দিয়ে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন বিরোধী প্রার্থী তথা কংগ্রেস নেতা হেমন্ত কাটোরে। কিন্তু সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখে রিটার্নিং অফিসার উমেশ শর্মা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মনোনয়নে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের কোনওরকম নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি এবং তাঁর নথিপত্র সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন রয়েছে।
রিটার্নিং অফিসারের এই রায়ে স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেস শিবিরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সহজে মেনে নিতে নারাজ বিরোধী দল। কংগ্রেস নেতা হেমন্ত কাটোরে এবং বিধায়ক আতিফ আকিল এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে, নথিতে একাধিক ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মনোনয়ন বাতিল না করা সরাসরি ভারতীয় গণতন্ত্রের ওপর এক বিরাট আঘাত। নির্বাচন কমিশনের এই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এল মুরুগান এই রাজ্যসভা আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ফলেই মধ্যপ্রদেশে এই উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আগামী ৫ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে হরদীপ সিং পুরীর জয়ের কথা ঘোষণা করা হতে পারে।