তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজের দলেরই হাতে প্রহৃত বিধায়ক! ডেবরায় বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বে শোরগোল!

তোলাবাজির বিরুদ্ধে সুর চড়ানোয় নিজ দলের একাংশের রোষানলে পড়ে আক্রান্ত হলেন ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম। ঘটনার জল গড়িয়েছে থানা পর্যন্ত। দলেরই ৬ জন কর্মীর বিরুদ্ধে ডেবরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিধায়ক। পুলিশ সূত্রের খবর, লিখিত অভিযোগপত্রটি খতিয়ে দেখে এফআইআর (FIR) রুজু করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বিধায়ক জানান, ডেবরা থানার কাছেই বিজেপি কর্মীদের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র বচসা ও মারামারি শুরু হয়। একপক্ষ অপর পক্ষকে মারধর করছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও নিজের দলের কর্মীদের থামাতে সেখানে গেলে বিধায়কের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা তৎক্ষণাৎ তৎপর না হলে আরও বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। হামলায় জখম বিধায়ককে প্রথমে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ও পরে মেদিনীপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিধায়ক বলেন, “আমাদের দল তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। জেলা নেতৃত্বের মদতেই এলাকা জুড়ে তোলাবাজি চলছে। ৪ তারিখের পর দলে যোগ দেওয়া কিছু সুযোগসন্ধানী এর সঙ্গে যুক্ত। আমি প্রতিবাদ করেছিলাম বলেই আমার ওপর এবং সঙ্গে থাকা ৪-৫ জনের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে।”

তবে বিধায়কের অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস। তিনি বলেন, “তোলাবাজির কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলে তা আলোচনা করে মেটানো যেত। হাসপাতালে গিয়ে দেখলাম সবাই সুস্থ আছেন, কিন্তু সাংবাদিকদের দেখেই ব্যান্ডেজ বাঁধতে শুরু করলেন! এভাবে প্রকাশ্যে বিতর্ক তৈরি করা একদমই অনুচিত।”