পাহাড়ে মরণফাঁদ! নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে ঝুলে পড়ল গাড়ি, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন চালক

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি রাস্তায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন এক চালক। রক গার্ডেনের দিকে যাওয়ার পথে গাড়িটির ব্রেক বিকল হয়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের প্যারাপেট ভেঙে গভীর খাদের কিনারে আটকে যায়। বরাতজোরে বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

শনিবার সকালে দার্জিলিং শহর থেকে রক গার্ডেনের দিকে যাচ্ছিলেন ওই চালক। পাহাড়ি রাস্তা চড়াই-উৎরাই আর খানাখন্দে ভরা থাকায় এমনিতেই সেখানে গাড়ি চালানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর বর্ষার দাপটে রাস্তার অবস্থাও শোচনীয়। এমনই এক ঢালু রাস্তায় নামার সময় হঠাতই গাড়ির ব্রেক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার ধারের গার্ড ওয়াল বা প্যারাপেট ভেঙে সরাসরি খাদের দিকে এগিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িটি একদম খাদের কিনারে গিয়ে ঝুলে পড়েছিল। ভাগ্য ভালো যে সেটি একদম নিচে আছড়ে পড়েনি, প্যারাপেটে আটকে থাকায় বড় বিপত্তি ঘটেনি। ঘটনার সময় গাড়িতে চালক ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরেও চালক অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছেন। গাড়ির এমন দশা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা স্তম্ভিত হয়ে যান।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় মানুষজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁদের তৎপরতাতেই অত্যন্ত সাবধানে ঝুলন্ত গাড়িটি থেকে চালককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িটিকেও উদ্ধার করার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পাহাড়ি এলাকায় এখন বর্ষার মরশুম চলছে। উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া দফতর গত কয়েকদিন ধরেই দফায় দফায় লাল এবং কমলা সতর্কতা জারি করেছে। পাহাড়ি রাস্তাঘাট এমনিতেই বিপজ্জনক হয়ে থাকে, তার ওপর বৃষ্টির কারণে ধসের আশঙ্কা ও রাস্তার বেহাল দশা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বারবার সতর্কতা জারি সত্ত্বেও পাহাড়ের রাস্তায় যাতায়াত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। স্থানীয় প্রশাসন এবং পথচারীরা বারবার আবেদন জানাচ্ছেন, বর্ষাকালে পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় চালকরা যেন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং গাড়ির যান্ত্রিক পরীক্ষা নিয়মিত করান। চালকের অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসাকে একপ্রকার দৈব রক্ষা বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।