পান্নুন হত্যা ষড়যন্ত্রে বড় মোড়! নিখিল গুপ্তার সাজা ঘোষণায় মার্কিন আদালতের বড় সিদ্ধান্ত!

খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা তথা ‘শিখস ফর জাস্টিস’-এর প্রধান গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত নিখিল গুপ্তার সাজা ঘোষণার দিন পিছিয়ে দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। নতুন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ নভেম্বর এই মামলার সাজা ঘোষণা করা হবে। এর আগে নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতের তরফে ২৫ সেপ্টেম্বর সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে মামলার মূল টার্গেট বা লক্ষ্য হওয়া ওই ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত শুনানির নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের নথিপত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম সরাসরি প্রকাশ না করা হলেও, পান্নুনের আইনজীবী প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছেন যে তিনিই ছিলেন সেই খুনের ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য।

নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে প্রসিকিউটর বা সরকারি কৌঁসুলিদের জমা দেওয়া একটি চিঠিতে জানানো হয়েছিল যে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি আইনি প্রক্রিয়া এবং সাজা ঘোষণার শুনানিতে নিজে উপস্থিত থেকে অংশ নিতে ইচ্ছুক। তিনি আদালতের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান যেন ২৫ সেপ্টেম্বরের শুনানি স্থগিত করা হয়, কারণ ওই নির্দিষ্ট সময়ে তিনি দেশের বাইরে থাকবেন। এই যুক্তির ভিত্তিতে বিচারক ভিক্টর মারেরো আবেদন মঞ্জুর করেন এবং নিখিল গুপ্তার সাজা ঘোষণার নতুন সময় হিসেবে আগামী ২০ নভেম্বর সকাল ১০টা নির্ধারণ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানির সময় নিখিল গুপ্তা তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ভাড়াটে খুন বা মার্ডার-ফর-হায়ার, খুনের ষড়যন্ত্র এবং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থেকে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের ষড়যন্ত্র। মার্কিন আইনের নিয়ম অনুযায়ী, ভাড়াটে খুনের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর, খুনের ষড়যন্ত্রের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর মোট ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩০ জুন চেক প্রজাতন্ত্রে গ্রেফতার হওয়ার দীর্ঘ এক বছর পর নিখিলকে প্রত্যর্পণ করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। নিউইয়র্কে বসবাসকারী খালিস্তানি নেতা পান্নুনকে হত্যার ছক কষার অভিযোগে তাঁকে চেক প্রজাতন্ত্র থেকে মার্কিন মুলুকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নিউইয়র্ক পুলিশ আদালতে পেশ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে তিনি দোষ স্বীকার করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ভারত সরকারের এক এজেন্সির কর্তার নির্দেশে নিখিল এই কাজ করেছিলেন। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক গত ১৭ অক্টোবর, ২০২৪ সাফ জানিয়ে দেয় যে এই পরিকল্পনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারত সরকারের কোনও কর্মচারী নন এবং মার্কিন বিচার বিভাগের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বর্তমানে ২০ নভেম্বরের দিকেই বিশ্বজুড়ে কৌতূহলী মহলের নজর আটকে রয়েছে।